সায়ান আহমেদ
প্রকাশ:১৩:১৩,২ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে চায় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ লক্ষ্যে পণ্য কেনার ব্যয়, ব্যাংকঋণের সুদ এবং পরিচালন খরচ কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ ব্যয় থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ব্যয় সংকোচন ও আয় বাড়ানোর এসব উদ্যোগের মধ্যে ভর্তুকির আওতায় বিক্রি করা পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ব্যয় কমানো, ব্যাংকঋণের সুদের বোঝা হ্রাস, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকি ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে সংস্থার মোট ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়তে পারে। অর্থাৎ একদিকে ব্যয় কমিয়ে আর্থিক চাপ হ্রাস, অন্যদিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এক অর্থবছরেই ভর্তুকি ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি
টিসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। অথচ এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মূলত পণ্য কেনার মূল্য ও ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির দামের পার্থক্য এবং ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধের কারণে এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়।
টিসিবির কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে পৌঁছে দেওয়া। এ কারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনে তা অনেক কম দামে বিক্রি করতে হয়। ফলে প্রতিটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। এ ব্যবধান পূরণ করতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়।
টিসিবির চেয়ারম্যানের মতে, সংস্থাটির আর্থিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পণ্য কেনার দামের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা। কিছু পণ্য ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে ভর্তুকির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ বর্তমানে ডিলার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকঋণের সুদ যোগ করলে প্রকৃত ব্যয় প্রায় ২০০ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রতি লিটার তেল বিক্রিতে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকছে। এ ব্যবধানের অর্থ সংস্থাকে ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
ব্যাংকঋণের সুদে বছরে ব্যয় ৪৫০ কোটি টাকা
টিসিবির আর্থিক ব্যয়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধে। বর্তমানে সংস্থাটির বার্ষিক ব্যাংকঋণের সুদ ব্যয় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। এ ব্যয় কমিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ঋণপত্র (এলসি) ও ঋণপত্রের বিপরীতে ঋণ (এলটিআর) সুবিধার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নগদ অর্থে পণ্য কেনার উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। বিশেষ করে চিনি ও মসুর ডাল কেনার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে ব্যাংকঋণের সুদ, এলসি চার্জ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ বলেন, ঋণপত্র এবং ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমানো হচ্ছে। যেখানে সম্ভব, নগদ অর্থে পণ্য কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার ফলে এলসি চার্জ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কম সুদে ঋণসুবিধা পাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও এলটিআর সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে টিসিবি। এতে ঋণের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে।
বিক্রির টাকা দ্রুত জমায় চালু হয়েছে এপিআই
টিসিবির নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে বিক্রির অর্থ দ্রুত সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবস্থা।
আগে টিসিবির পণ্য বিক্রির অর্থ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হিসাবের মাধ্যমে সংস্থার কাছে আসত। এতে অর্থ জমা ও হিসাব সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সময় লাগত। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ দ্রুত টিসিবির ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। ফলে সংস্থার নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে।
টিসিবি মনে করছে, অর্থ জমার প্রক্রিয়া দ্রুত হলে পণ্য কেনার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সহজে ব্যবহার করা যাবে। এতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ঋণের সুদ বাবদ ব্যয়ও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।
সাবান-ডিটারজেন্ট-লবণ বিক্রি করে মুনাফা
শুধু ভর্তুকি কমানো নয়, নিজস্ব আয় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে সংস্থাটি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হলেও কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে এসব পণ্য থেকে সংস্থার মুনাফা আসছে।
টিসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের পণ্যের সংখ্যা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়িয়ে নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। সংস্থার নিজস্ব আয়ও বাড়াতে হবে। সে কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিসিবির মতো সরকারি বিপণন সংস্থার জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর মূল সামাজিক দায়িত্ব বজায় রাখতে হবে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকির পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আয় বাড়ানো গেলে আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
পণ্য পরিবহন ও বিতরণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
টিসিবির পরিচালন ব্যয় কমাতে পণ্য পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সংস্থার আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্য জেলা প্রশাসনের গুদামে পাঠানো হতো। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হতো। এতে পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং গুদাম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয় হতো।
নতুন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক গুদাম থেকেই সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এতে পণ্য একাধিক গুদামে স্থানান্তরের প্রয়োজন কমেছে। ফলে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া জরিপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। টিসিবির চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, জরিপ ও এ-সংক্রান্ত কাজে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। একই ধরনের জরিপের পুনরাবৃত্তি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করা গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
সংস্থাটি মনে করছে, পরিচালন ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ এবং একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি ভর্তুকির ওপর আর্থিক চাপও কমবে।
উপকারভোগী বাড়িয়ে ৮০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা
ভর্তুকির ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি টিসিবির উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পণ্যসহ সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পণ্য কিনছেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ বলেন, চলতি বছর ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আগামী অর্থবছরে এক কোটি মানুষের কাছে পণ্য সরবরাহ করার আশা রয়েছে।
তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে ভর্তুকির মোট প্রয়োজনও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। কারণ বেশি মানুষের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। আর ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির কারণে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানও বাড়তে পারে।
এ কারণে একদিকে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো এবং অন্যদিকে আর্থিক ব্যয় কমানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। পণ্য সংগ্রহে ব্যয় কমানো, ব্যাংকঋণের সুদ হ্রাস এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।
ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না
টিসিবির আর্থিক ব্যয় কমানোর নানা উদ্যোগ থাকলেও বর্তমানে ভর্তুকির আওতায় বিক্রি করা পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। অর্থাৎ নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রচলিত ভর্তুকির পণ্য আগের দামেই বিক্রি করা হবে।
তিনি জানান, নতুন বাণিজ্যিক পণ্য সংযোজন করা হলেও সেগুলো কেনা উপকারভোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে না। কেউ চাইলে এসব পণ্য কিনতে পারবেন। তবে নতুন পণ্য কিনতে কাউকে বাধ্য করা হবে না। ফলে ভর্তুকির আওতায় থাকা পণ্য কেনার পাশাপাশি উপকারভোগীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্যিক পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।
টিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, পণ্য সংগ্রহের ব্যয় কমানো, ব্যাংকঋণের সুদ হ্রাস, পরিবহন ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সার্বিকভাবে টিসিবির সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকি ও ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো। এ দুই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যয় সংকোচন, নগদ অর্থে পণ্য সংগ্রহ, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ এবং পরবর্তী সময়ে এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভর্তুকির ব্যয় কমানোর লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়, সেটিই হবে টিসিবির আগামী দিনের বড় পরীক্ষা।