তাসনিম হোসেন
প্রকাশ:১৪:২৩,২ নভেম্বর ২০২৬
নতুন ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন, হারানো কার্ড পুনরুদ্ধার কিংবা ভোটার এলাকা পরিবর্তন—এসব সেবা এখন অনলাইনেই আবেদন করা যায়। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও সেবাভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম আলাদা।
নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগসহ ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে এনআইডি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। তাই এনআইডির তথ্য ভুল থাকলে বা কার্ড হারিয়ে গেলে কীভাবে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে, তা জানা জরুরি।
নতুন ভোটার হতে যা করবেন
১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকেরা নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ভোটার হতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এরপর জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ফরম প্রিন্ট করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস ও স্বাক্ষর নেওয়া হতে পারে।
নতুন ভোটার নিবন্ধনে সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
জন্ম নিবন্ধন সনদ।
এসএসসি বা সমমানের সনদ।
সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের কাগজ।
বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্বামীর এনআইডি ও বিবাহ সনদ।
এনআইডিতে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন করবেন যেভাবে
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়।
নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রথমে ভুল তথ্য শনাক্ত করে সঠিক তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে নিজের নাম কিংবা বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক সনদ ও অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যের বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে জমা দেওয়া উচিত।
জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের পক্ষে যথাযথ প্রমাণপত্র দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে—
জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্য মিলিয়ে নিন।
ভুল জন্মতারিখ ও প্রস্তাবিত সঠিক তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন।
আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে নিয়মিত অগ্রগতি দেখুন।
এনআইডি হারিয়ে গেলে পুনরায় পাবেন যেভাবে
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে অনলাইনে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হারানো এনআইডি পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরি বা জিডির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
হারানো এনআইডি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া—
১. প্রথমে পুরোনো এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করুন।
২. নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
৩. পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করুন।
৪. পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
৫. আবেদন নম্বর ও পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
৬. অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করুন।
জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুযোগ থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এনআইডির ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন ছবি ও স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করা গেলেও ছবি ও স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন হলে নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে যা করবেন
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্রসহ নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফরম-১৩ ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। আবেদনপত্রে আগের ঠিকানা, নতুন ঠিকানা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
তবে আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
অনলাইনে এনআইডির ডিজিটাল কপি সংগ্রহ
জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি অথবা লগইন করতে হবে।
এরপর প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করলে ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
এনআইডি সংশোধনে কত দিন সময় লাগে?
এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করে সংশোধনের ধরন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং তথ্য যাচাইয়ের ওপর।
সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে আনুমানিক ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস এবং জটিল আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি নির্বাচন কমিশনের নিশ্চিত সময়সীমা নয়। আবেদন নম্বর দিয়ে অনলাইনে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এনআইডি সেবা পাবেন কোথায়?
জাতীয় পরিচয়প