গার্মেন্টসশিল্প অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মাহদী আমিন

আদিব খান

প্রকাশ:১৪:১৬,২ নভেম্বর ২০২৬

গার্মেন্টসশিল্প অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মাহদী আমিন

যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টসশিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টসশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ শিল্পের মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও শিল্পটির বিকাশ এবং শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

গার্মেন্টসশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাপ্লাই চেইন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের মধ্যেও একটি চিহ্নিত মহলের শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

কারখানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুর এবং যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে বলেও দাবি করেন এই উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই। এতে বেকারত্ব বাড়বে, রপ্তানি আয় কমবে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

পোস্টের শেষে সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্তি, গুজব ও উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, গার্মেন্টস খাত ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় পাশে থাকবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন