আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:১৩:৩৮,২ নভেম্বর ২০২৬
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য তথা ‘সেভেন সিস্টার্সে’ বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে ৭৬৫ কেভির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সমান সুযোগ ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে একক কোনো সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি দিতে চায় না ঢাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ ও ১০ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সচিবদের সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করে ভারত। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে ভারত জানায়, বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডর নির্মাণ করতে চায় তারা। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ চাইলে ওই সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
তবে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষ অবস্থান তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ এই করিডরের অনুমতি দেবে না।
তিনি জানান, বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সরাসরি বা আঞ্চলিক গ্রিড সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ অথবা নেপাল-ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, শুধু দ্বিপক্ষীয় সুবিধার ভিত্তিতে নয়, বরং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
আগেও আলোচনা হয়েছিল বিদ্যুৎ করিডর নিয়ে
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ১৯ ও ২০ জুলাই দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে ভারতের এই সঞ্চালন লাইন নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল।
ওই সময় প্রস্তুত করা নথিপত্রে ২০২৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকার প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
পরবর্তী সময়ে গত ৬ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকেও তিনি ৭৬৫ কেভির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সাক্ষাতের পর মন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, বাংলাদেশ সেভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে না।
সব মিলিয়ে ভারতের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ করিডর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড ও পারস্পরিক সমান সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।