বাইন্যান্স থেকে এক দিনে ৩৬৪ কোটি ডলার তুলে নিলেন গ্রাহকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ:১৩:২৭,২ নভেম্বর ২০২৬

বাইন্যান্স থেকে এক দিনে ৩৬৪ কোটি ডলার তুলে নিলেন গ্রাহকরা

ভয়াবহ সাইবার হামলার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করতেই বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে এক দিনে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। গত রোববার (১ নভেম্বর) লেনদেন চালুর পর বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বাইন্যান্স তাদের সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। ইতিহাসের অন্যতম বড় এই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

বাইন্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ১ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকদের ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উত্তোলন এবং ১০১ কোটি ডলারের জমার আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। এতে নিট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কার্যক্রম চালুর পরপরই অর্থ উত্তোলনের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তা কমতে শুরু করে। প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হচ্ছে।

বাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে গ্রাহকদের তুলে নেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাধীন মোট ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদের ২ শতাংশের কিছু বেশি।

হামলার ক্ষতি সামাল দিতে গত সপ্তাহেই ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি তহবিল সংরক্ষিত রাখার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাইন্যান্সের দাবি, সাইবার হামলায় চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশ তারা নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করতে পেরেছে। বাকি অর্থের সংস্থানেও কাজ চলছে।

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

এই সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার চক্র ‘ট্রেডারট্রেটর’ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটি ‘লাজারাস গ্রুপ’ নামেও পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালে আরেক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে তৎকালীন রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।

গত শনিবার হ্যাকার চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে এফবিআই। একই সঙ্গে এসব ওয়ালেটের সঙ্গে যেকোনো ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করতে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাইন্যান্স।

প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক করে হামলার সূত্রপাত

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে সাইবার হামলার সূত্রপাত। ওই ল্যাপটপে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর হ্যাকাররা লেনদেন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।

হামলাটি মূলত বাইন্যান্সের বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ Binance.com-কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামসহ দুই ডজনের বেশি প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হলে অন্যান্য সেবাও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের অর্থের সংস্থান করা হয়েছে করপোরেট তহবিল, ফিউচার্স ইন্স্যুরেন্স এবং জরুরি সংরক্ষিত তহবিলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে।

প্রতিষ্ঠানটি পুনর্ব্যক্ত করেছে, সাইবার হামলার কারণে গ্রাহকদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তারা বহন করবে। গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগের মতোই বহাল রয়েছে বলেও জানিয়েছে বাইন্যান্স।

চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো একধরনের ডিজিটাল সম্পদ, যা কম্পিউটার ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও লেনদেন করা যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন