সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান

রাইয়ান হোসেন

প্রকাশ:১৩:০৯,২ নভেম্বর ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি ও জোটের মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় এবং একমাত্র প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩ মহিলা আসন-২৩-এ নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩ মহিলা আসন-২৩ সংরক্ষিত মহিলা আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল। ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জোটের মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামান তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দাখিল করা মনোনয়নপত্র পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলিজা জামান তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ধারা ১২-এর উপধারা (১) অনুসারে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনটির উপনির্বাচনে এলিজা জামানের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বিপরীতে অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন না, তাই ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি।

ফেরদৌসী মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হয় আসন

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

এরপর শূন্য আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সবশেষে বিএনপি ও জোটের মনোনীত একমাত্র প্রার্থী এলিজা জামানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

সংসদে নতুন প্রতিনিধি পেল বিএনপি

এলিজা জামানের নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে এলিজা জামানের অন্তর্ভুক্তি সংসদের কার্যক্রমে নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন