তানভীর খান
প্রকাশ:১৯:৪৬,২৭ অক্টোবর ২০২৬
বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণকে কম্বোডিয়ায় পাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিযোগ রয়েছে, কম্বোডিয়ায় নেওয়ার পর দুই তরুণের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে একটি প্রতারণাকেন্দ্রে বিক্রি করা হয়। সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি দল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের পূবাইল এলাকার মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিক সচ্ছলতার আশায় মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়েন ওই দুই তরুণ। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি প্রতারণাকেন্দ্রে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেখানে তাঁদের জোর করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নিজেদের ইচ্ছায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা দেশে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না তাঁদের।
একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে তাঁদের মুক্তির জন্য পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন। তবে মুক্তির পরও তাঁদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পাচারকারীরা আবারও তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় এবং দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে।
পরে দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তায় তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর পল্টন থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে সিআইডি। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।