যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস: ৭ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ:০১:০৪,১৮ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস: ৭ জন গ্রেপ্তার

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশালে রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষা সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সম্ভাব্য গ্রাহক, সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), আসাদুল ইসলাম (৩৩), নূর মোহাম্মদ (৩০) ও জাহাঙ্গীর (৩৮)।

 

এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলাম এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুঠোফোনের কথোপকথন ও চ্যাটের তথ্য পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। পরদিন ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৩।

 

প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়ার দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলামের নাম উঠে আসে। নিয়োগ ও ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি। সংস্থাটির দাবি, পরে মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

 

এসআরবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুঠোফোনের চ্যাটের তথ্য পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের একটি ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, নূর মোহাম্মদ পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্য ও তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, রুবেল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক এবং নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত। মফিজুল ইসলাম একজন চাকরিপ্রার্থী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে দাবি করেছে এসআরবি।

 

যা যা জব্দ করা হয়েছে

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পৃষ্ঠা, ১০টি সনদ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পৃষ্ঠা, একটি ব্যাংক চেক, আটটি মুঠোফোন, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১৫টি সনদ, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা।

 

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন