নানাকে হারিয়ে বদলে গেছে পরীমণির উদযাপন

আনন্দ প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ:১৬:১৭,২৪ অক্টোবর ২০২৬

নানাকে হারিয়ে বদলে গেছে পরীমণির উদযাপন

ছবি: সংগৃহীত

একসময় চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্মদিন মানেই ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন, তারকাদের মিলনমেলা আর চোখধাঁধানো উৎসব। অভিজাত পাঁচতারা হোটেলের সাজসজ্জা, বিশেষ থিমে অনুষ্ঠান, আকর্ষণীয় পোশাক এবং কেক কাটার আয়োজন ঘিরে তৈরি হতো বাড়তি উন্মাদনা। সহকর্মী ও তারকাদের উপস্থিতিতে জন্মদিনের অনুষ্ঠান পরিণত হতো আলোচিত এক আয়োজনে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চেনা ছবি। এখন আর জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব নয়, বরং কাছের মানুষদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোতেই বেশি আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকেই জন্মদিন উদযাপন নিয়ে পরীমণির ভাবনায় এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৩ সালে নানার মৃত্যুর পর আগের মতো করে জন্মদিন উদযাপনের আনন্দ খুঁজে পান না তিনি। তাই এবারও থাকছে না বড় কোনো পার্টি কিংবা কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা। প্রিয়জনদের নিয়ে একান্তে সময় কাটানোর জন্য আয়োজন করেছেন বিশেষ এক সন্ধ্যা, যার নাম দিয়েছেন ‘শিউলিসন্ধ্যা’।

আজ ২৪ অক্টোবর পরীমণির জন্মদিন। জীবনের এই বিশেষ দিনটিতে উৎসবের জৌলুসের চেয়ে আবেগ, স্মৃতি আর প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যকেই প্রাধান্য দিতে চান তিনি। শরতের শিউলি ফুলের আবহে সাজানো এই আয়োজন হবে পূর্বাচলের একটি রেস্তোরাঁয়।

নানাকে হারানোর পর বদলে গেছে জন্মদিনের আনন্দ

১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জন্ম পরীমণির। তাঁর আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে পিরোজপুরে নানাবাড়িতে। মাকে হারানোর পর নানা শামসুল হক গাজীর স্নেহ ও ভালোবাসায় বেড়ে ওঠেন তিনি। জীবনের নানা কঠিন সময়ে নানাই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ, আশ্রয় ও ভরসার জায়গা।

তাই নানার চলে যাওয়া পরীমণির জীবনে তৈরি করেছে গভীর শূন্যতা। ব্যক্তিগত জীবনের এই ক্ষতি তাঁর অনুভূতি ও জীবনযাপনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জন্মদিনের মতো আবেগঘন দিনে সেই শূন্যতা যেন আরও বেশি করে অনুভব করেন অভিনেত্রী।

একসময় জন্মদিনে বন্ধু, সহকর্মী ও তারকাদের নিয়ে আনন্দে মেতে উঠতেন পরীমণি। তবে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর পর সেই আনন্দের ধরন বদলে গেছে। এখন দিনটিকে শুধু উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে দেখেন না তিনি; বরং জীবনের প্রাপ্তি, হারানো মানুষ আর সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করার একটি সময় হিসেবেও দেখেন।

জন্মদিন এলে কী অনুভব করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে পরীমণি জানিয়েছেন, প্রতিবছরই এই দিন তাঁকে নতুন নতুন উপলব্ধির মুখোমুখি করে। নানাকে হারানোর পর জন্মদিনে কেক কাটা কিংবা সবাইকে নিয়ে হইহুল্লোড় করার কথা আর আগের মতো তাঁর মাথায় আসে না।

এবার জন্মদিনে কেক কাটবেন না পরীমণি

এবারের জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে পরীমণির পরিকল্পনাও বেশ আলাদা। বড় পরিসরে উৎসব করার পরিবর্তে কাছের মানুষদের নিয়ে একটি সন্ধ্যা কাটাতে চান তিনি। সেই ভাবনা থেকেই ‘শিউলিসন্ধ্যা’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন।

পরীমণির ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মদিনে এবার কোনো কেক কাটা হবে না। বরং তাঁর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া এবং ভালোবাসার মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই হবে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর কাছের মানুষ, তাঁদের নিয়ে ছোট্ট একটি সন্ধ্যা কাটানোর ইচ্ছা থেকেই এই আয়োজন। সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সার্থক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

জন্মদিনের আয়োজনে এমন পরিবর্তন পরীমণির বর্তমান মানসিক অবস্থারও প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁর কাছে এখন আনন্দের অর্থ শুধু বড় আয়োজন কিংবা উৎসবের চাকচিক্য নয়; বরং যাঁরা জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শরতের শিউলি ফুলে সাজবে ‘শিউলিসন্ধ্যা’

শরৎ মানেই শিউলি ফুল, স্নিগ্ধ আবহ আর এক ধরনের মায়াময় অনুভূতি। পরীমণির এবারের জন্মদিনের আয়োজনেও সেই আবহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘শিউলিসন্ধ্যা’ নামের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতি, স্মৃতি ও আবেগের এক বিশেষ ইঙ্গিত।

অভিনেত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যায় পূর্বাচলের একটি রেস্তোরাঁয় বসবে এই আয়োজন। সেখানে কাছের মানুষদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ, আড্ডা এবং ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে কাটবে সময়।

বর্ণাঢ্য জন্মদিনের পরিবর্তে এমন ঘরোয়া আয়োজন পরীমণির ভক্তদের কাছেও অন্য রকম বার্তা বহন করছে। কারণ, যে অভিনেত্রীর জন্মদিন একসময় বড় আয়োজনের জন্য আলোচনায় থাকত, তিনি এখন নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও ব্যক্তিগত ও আবেগঘন করে তুলতে চাইছেন।

তবে আয়োজন ছোট হলেও এর আবেগের গভীরতা কম নয়। বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অল্প সময়ই কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।

জন্মদিনের আগেই নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ততা

ব্যক্তিগত জীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি পরীমণি। জন্মদিনের আগেই নতুন একটি কাজ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এ অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী।

এই ওয়েব ফিল্মে পরীমণিকে দেখা যাবে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকের চরিত্রে। চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্দায় নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’-এর পর আবারও গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় কাজ করছেন পরীমণি। প্রায় চার বছর পর এই নির্মাতার সঙ্গে তাঁর নতুন কাজ হতে যাচ্ছে ‘সেপারেশন’। ফলে অভিনেত্রী ও নির্মাতার এই পুনর্মিলন ঘিরেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

৬০ মিনিটের এই ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে আইস্ক্রিনে। তবে মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

নতুন চরিত্রে নতুন অভিজ্ঞতার অপেক্ষা

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সঙ্গে পরীমণির আগের কাজগুলো দর্শকের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ‘স্বপ্নজাল’-এ তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার ‘সেপারেশন’-এ সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকের মতো একটি দায়িত্বশীল চরিত্রে তাঁকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকেরা।

নতুন চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে একজন শিল্পীর সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ থাকে, তেমনি থাকে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ। পরীমণির ক্ষেত্রেও এই কাজটি তেমন একটি সুযোগ হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অভিনয়ের নতুন অধ্যায়ে নিজেকে কতটা ভিন্নভাবে মেলে ধরেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে ওয়েব ফিল্মটির গল্প, চরিত্রের বিস্তারিত দিক এবং মুক্তির নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য সামনে আসেনি।

জৌলুস কমলেও বিশেষ হয়ে উঠছে জন্মদিন

পরীমণির এবারের জন্মদিনে নেই আগের মতো বড় আয়োজন, নেই কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা কিংবা তারকাদের নিয়ে জমকালো উৎসব। আছে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা, শরতের শিউলি ফুলের আবহ এবং হারানো নানার স্মৃতি।

জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময় মানুষের আনন্দ উদযাপনের ধরন বদলে দেয়। পরীমণির ক্ষেত্রেও নানাকে হারানোর পর জন্মদিনের অর্থ যেন নতুনভাবে ধরা দিয়েছে। এখন দিনটি তাঁর কাছে শুধু বয়স বাড়ার হিসাব নয়; বরং প্রিয় মানুষদের গুরুত্ব উপলব্ধি করারও একটি উপলক্ষ।

একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ, অন্যদিকে নতুন কাজের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এবারের জন্মদিন তাঁর কাছে অন্য রকম। উৎসবের জৌলুস হয়তো কমেছে, কিন্তু কাছের মানুষদের ভালোবাসা আর স্মৃতির গুরুত্ব বেড়েছে আরও বেশি।

‘শিউলিসন্ধ্যা’ তাই শুধু জন্মদিনের একটি আয়োজন নয়; বরং জীবনের পরিবর্তন, হারানোর বেদনা এবং ভালোবাসার মানুষদের কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার এক আবেগঘন প্রকাশ।

আরও পড়ুন