আনন্দ প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশ:১৫:৫৪,৩১ অক্টোবর ২০২৬
বলিউডের আলোচিত আর্থিক প্রতারণার মামলা থেকে যেন কিছুতেই মুক্তি মিলছে না অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির। কুখ্যাত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলায় এবার নতুন করে আদালতের ডাক পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। আগামী ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নোরার নাম উল্লেখ থাকায় আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে হতে পারে তাঁকে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় নতুন এই পদক্ষেপ ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছেন বলিউডের এই তারকা।
সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি রুপি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে একসময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল বলিউডে। এই মামলায় বিভিন্ন সময় একাধিক অভিনেত্রী ও পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। সুকেশের কাছ থেকে দামি উপহার ও বিলাসবহুল সামগ্রী গ্রহণের অভিযোগে আগেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন নোরা ফাতেহি। তবে এবার তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে নয়, বরং সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তাঁর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য তিনি নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন। শুধু অর্থ নয়, দামি প্রসাধনসামগ্রী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ এবং বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথাও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি নোরার সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কিছু অংশও একসময় প্রকাশ্যে এনেছিলেন সুকেশ। এসব বিষয় সামনে আসার পর নোরা ও সুকেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে সুকেশের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
নোরা ও সুকেশকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল আরও আগে। সুকেশের অভিযোগ ছিল, বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য নোরা বিভিন্নভাবে উসকানি দিতেন। জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে নোরা তাঁকে নিয়মিত ফোন করতেন বলেও দাবি করেছিলেন সুকেশ। পাশাপাশি নোরার বিরুদ্ধে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগ সুকেশের নিজস্ব বক্তব্য এবং সেগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
গত আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। ওই চিঠিতেও নোরাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এর ফলে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি দুই তারকাকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা দাবি নিয়েও সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলতে থাকে।
এদিকে একই মামলায় নাম জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজও। তাঁকেও বিভিন্ন সময়ে আদালতে হাজির হতে হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি। সুকেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জ্যাকলিনের নামও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ফলে এই মামলার প্রতিটি নতুন অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন বলিউডসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও ভক্তরা।
অন্যদিকে, সুকেশের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পেশাগত জীবনেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন নোরা ফাতেহি। গত আগস্টে এক বক্তব্যে অভিনেত্রী দাবি করেন, এই মামলার কারণে তাঁকে একাধিক বিজ্ঞাপন ও প্রতিষ্ঠানের কাজ হারাতে হয়েছে। পরপর কাজ হাতছাড়া হওয়ায় কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে ২০০ কোটি রুপির প্রতারণা মামলায় নতুন করে আদালতের নির্দেশ পাওয়ায় আবারও আলোচনায় নোরা ফাতেহি। আগামী ২ নভেম্বর রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে তাঁর উপস্থিতি মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে মামলার অভিযোগ, সুকেশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।