মানিক পশারীর দাফন নিয়ে উদ্দেশে যা বললেন জারা

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ:১২:৩৩,২৬ অক্টোবর ২০২৬

মানিক পশারীর দাফন নিয়ে উদ্দেশে যা বললেন জারা

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার ঘটনার পর মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গভীর রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার পর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করতে হয় বলে জানা গেছে।

মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন।

দাফন নিয়ে বিতর্ক ও উত্তেজনা

ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে মরদেহ নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার দাবি, স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা মিছিল, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তাসনিম জারা আরও লেখেন, কবর ভরাট করে দেওয়ার পর মানিক পশারীর মেয়ে ও বোনেরা নিজেরাই নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরে গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সেখানে দাফন সম্পন্ন হয়।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন

তাসনিম জারার পোস্ট অনুযায়ী, মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে গার্ড অব অনার দিতে না দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, কারও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু দাফনে বাধা দিয়ে এমন বিরোধের নিষ্পত্তি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মানবিক মর্যাদা নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

নিজের পোস্টে তাসনিম জারা মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদা এবং শোকাহত পরিবারের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা কারও অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মৃত ব্যক্তির দাফন এবং পরিবারের শোক পালনের অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের আচরণের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলে থাকতেই যদি কারও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ক্ষমতা পেলে তাদের আচরণ কেমন হতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন