যানবাহন সংকটে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত

আয়াশ খান

প্রকাশ:১২:৩৯,২ নভেম্বর ২০২৬

যানবাহন সংকটে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত

দেশে তীব্র যানবাহন সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পুলিশের মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় নিয়মিত টহল, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, সন্দেহভাজন অপরাধীদের অনুসরণ এবং জরুরি ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তা টহল, ছিনতাই ও ডাকাতিপ্রবণ এলাকায় অভিযান এবং অপরাধীদের ধাওয়া করার ক্ষেত্রে যানবাহনের স্বল্পতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যানবাহন না থাকায় পুলিশ সদস্যদের বিকল্প ব্যবস্থায় কিংবা হেঁটে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে একাধিক এলাকায় একই সময়ে পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে সীমিতসংখ্যক গাড়ি দিয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেক গাড়ি প্রায়ই মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর ৩ হাজার ৬৪২টি যানবাহন অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে নতুন যানবাহন কেনা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২৪৯টি। ফলে অকেজো যানবাহনের বিপরীতে নতুন গাড়ি সংযোজনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের অনুমোদিত স্থায়ী সরঞ্জাম তালিকায় থাকা ১৬ হাজার ২০০টি যানবাহনের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়ি ও মোটরসাইকেল অচল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবস্থাপনায় সংকট আরও প্রকট। মোট ৯ হাজার ৭৮৭টি মোটরসাইকেলের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৫০৩টি। বাকি ৪ হাজার ২৮৪টি মোটরসাইকেল অচল। অর্থাৎ পুলিশের মোট মোটরসাইকেলের প্রায় ৪৪ শতাংশই বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী।

পুরনো গাড়িতে বাড়ছে ভোগান্তি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের যানবাহন সংকটের অন্যতম কারণ দীর্ঘদিনের পুরনো গাড়ির ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন যানবাহন সংগ্রহ করতে না পারা। বর্তমানে পুলিশের ৬ হাজার ৫৫৮টি যানবাহনের বয়স আট বছরের বেশি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের পরও গাড়িগুলো আগের মতো কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় মাঝপথে গাড়ি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

বিশেষ করে থানা ও ফাঁড়িতে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো নিয়মিত টহল, আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশি সহায়তা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় একই গাড়ি দিয়ে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কোনো এলাকায় অপরাধের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পুলিশ পাঠানোর জন্য যানবাহন প্রস্তুত না থাকলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। আবার একটি এলাকায় গাড়ি নিয়ে টহল পরিচালনা করা হলে অন্য এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হলো নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা। কোনো গাড়ি বিকল হলে তা মেরামত করতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হয়। এতে গাড়ির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় যানবাহন না থাকায় বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।

মোটরসাইকেলের প্রায় অর্ধেকই অচল

পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে মোটরসাইকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে সরু রাস্তা, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যানজটপূর্ণ শহর এবং গ্রামীণ সড়কে দ্রুত চলাচলের জন্য মোটরসাইকেলের বিকল্প সীমিত। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং নিয়মিত টহল পরিচালনায় মোটরসাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু পুলিশের মোট ৯ হাজার ৭৮৭টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ৪ হাজার ২৮৪টি অচল থাকায় মাঠপর্যায়ে এ ধরনের যানবাহনের সংকট প্রকট হয়েছে। সচল রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৫০৩টি। ফলে অনেক থানা ও ফাঁড়িতে প্রয়োজন অনুযায়ী মোটরসাইকেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে একাধিক এলাকায় একসঙ্গে টহল পরিচালনার প্রয়োজন, সেখানে সীমিতসংখ্যক মোটরসাইকেল দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অপরাধপ্রবণ এলাকায় মোটরসাইকেল টহল গুরুত্বপূর্ণ হলেও যানবাহনের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত নজরদারি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

থানাভিত্তিক পিকআপের ঘাটতি প্রায় ৪ হাজার

পুলিশের যানবাহন সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো থানা পর্যায়ে পিকআপের ঘাটতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি থানায় দুটি করে ডাবল কেবিন পিকআপ এবং দুটি করে সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় এসব যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম।

তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ডাবল কেবিন পিকআপের ঘাটতি ১ হাজার ৩২৮টি। অন্যদিকে সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের ঘাটতি ২ হাজার ৬৫৬টি। সব মিলিয়ে এই দুই ধরনের পিকআপের মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৮৪টি।

থানার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, পুলিশ সদস্য পরিবহন, অভিযান পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বাহিনী পাঠানো এবং বিভিন্ন অপারেশনাল দায়িত্ব পালনে পিকআপের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পিকআপ না থাকায় অনেক থানাকে সীমিত যানবাহন দিয়ে একাধিক ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় একই গাড়ি অন্য দায়িত্বে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একাধিক জরুরি ঘটনার ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থানা পর্যায়ে যানবাহনের চাহিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু থানার সংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার আয়তন, জনসংখ্যা, অপরাধের ধরন, সড়ক যোগাযোগ এবং অপরাধপ্রবণতার মাত্রাও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ মহানগর, শিল্পাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পুলিশি দায়িত্বের ধরন এক নয়। তাই এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সরবরাহ করা জরুরি।

সাত বছরে অকেজো ৩ হাজার ৬৪২, নতুন কেনা ২ হাজার ২৪৯টি

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর ৩ হাজার ৬৪২টি যানবাহন অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে। বিপরীতে একই সময়ে নতুন যানবাহন কেনা হয়েছে ২ হাজার ২৪৯টি। অর্থাৎ অকেজো ঘোষিত যানবাহনের তুলনায় নতুন গাড়ি কেনার সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৩টি কম।

এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পুরনো ও অকেজো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে পুলিশের মোট যানবাহনের সংখ্যা ও কার্যকর যানবাহনের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। নতুন গাড়ি কেনার পাশাপাশি পুরনো গাড়ির বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে সংকট তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন গাড়ি কেনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে অকেজো যানবাহন দ্রুত প্রতিস্থাপন, সচল গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কোন থানায় কতটি যানবাহন রয়েছে, তার মধ্যে কতটি সচল এবং কতটি মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে, সে বিষয়ে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

যানবাহন খাতে বছরে প্রয়োজন ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

পুলিশের যানবাহন সংকট কাটিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রতি বছর শুধু যানবাহন খাতেই ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ অর্থের মাধ্যমে পুরনো ও অকেজো গাড়ি প্রতিস্থাপন, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিদ্যমান যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হলে যানবাহন সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অকেজো গাড়ির বিপরীতে পর্যাপ্ত নতুন যানবাহন কেনা না গেলে থানা ও ফাঁড়িতে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নতুন যানবাহন কেনার পর সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও আলাদা বাজেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পুলিশের কার্যক্রমের সঙ্গে যানবাহনের সম্পর্ক সরাসরি। জনবল থাকলেও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা না থাকলে সেই জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো কঠিন। কোনো অপরাধের সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, অপরাধীকে আটক করা, আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে জনবল ও যানবাহন—দুই ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

যানবাহন সংকটে বাড়ছে জননিরাপত্তার উদ্বেগ

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের নিয়মিত টহল ও দৃশ্যমান উপস্থিতি অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোনো এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার থাকলে অপরাধীদের অবাধে চলাচল ও অপরাধ সংঘটনের সুযোগ সীমিত হয়। কিন্তু যানবাহনের অভাবে টহল কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে অপরাধীরা সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

বিশেষ করে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকায় দ্রুত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ঘটনা ঘটার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে অপরাধীকে শনাক্ত ও আটক করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সহায়তা পেতেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাদের মতে, পুলিশের কার্যক্রম কার্যকর করতে শুধু জনবল বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় যানবাহন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চাহিদার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ, পুরনো যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, পুলিশের যানবাহন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়াতে হবে। কোন এলাকায় কী পরিমাণ যানবাহন প্রয়োজন, কোথায় কতটি গাড়ি সচল রয়েছে এবং কোন কারণে যানবাহন অচল হচ্ছে, সেসব বিষয় নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। গাড়ি কেনার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যানবাহনের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

নতুন যানবাহন সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায়

এদিকে পুলিশের বিদ্যমান যানবাহন সংকট প্রসঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামারুম মুনিরা জানিয়েছেন, পুলিশের কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যানবাহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরনো ও অকেজো যানবাহনের পরিবর্তে নতুন যানবাহন সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যানবাহন নিশ্চিত করা গেলে পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার করা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া আরও সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে পুলিশের যানবাহন সংকট এখন মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে হাজার হাজার যানবাহন অকেজো হলেও তার তুলনায় নতুন যানবাহন সংযোজনের পরিমাণ কম। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের বড় অংশ অচল এবং থানা পর্যায়ে প্রায় ৪ হাজার পিকআপের ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন ও জরুরি পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় জনবল থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধার অভাবে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন