তানভীর খান
প্রকাশ:১৪:১৮,২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও শ্রমের মর্যাদা তৈরি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২১টি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখা, সপ্তাহে অন্তত এক দিন ডেঙ্গুর ঝুঁকি পরিদর্শন, বর্জ্য আলাদা করে ফেলা এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখার বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আজকের পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির ভিত্তি।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষ, করিডর ও পাঠাগারের মতো নিরাপদ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম শিক্ষকেরা তদারকি করবেন। তবে শৌচাগার, নোংরা নালা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি সপ্তাহে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হবে। কোথাও পানি জমছে কি না, এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের অগ্রগতি যাচাই করতে তালিকা সংরক্ষণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে চালু করা হবে ‘আমার বাসা, আমার দায়িত্ব’ কর্মসূচি। এর আওতায় ঘর গুছিয়ে রাখা, সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলা এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সাপ্তাহিক তালিকা দেওয়া হবে। প্রতি রোববার শিক্ষকেরা তা মূল্যায়ন করবেন।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির বিষয়েও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে।
কর্মসূচিতে বিদ্যালয়গুলোর পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেরা বিদ্যালয়, শ্রেণি ও শিক্ষার্থীদের সনদ, বই, শিক্ষা উপকরণ কিংবা গাছের চারা দিয়ে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ও-সোজি মডেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা নিজের বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে তা পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।
এর আগে গত ৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এরপর প্রায় তিন মাস ধরে গবেষণা, বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিবেচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী করে জাপানের বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘ও-সোজি’ মডেলের আদলে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।