আদিব খান
প্রকাশ:১৫:২৩,১ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ-এর কপি ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য আমাদের কী বার্তা দেয়?’
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা, প্রতিবাদলিপি পাঠানো কিংবা প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে রাশেদ খাঁনের এমন আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য, সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধ কিংবা কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংযম, পরিশীলিত আচরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশিত।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সরকারেরও সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়; বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করা অপরাধ হবে না, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের আচরণে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এ আচরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রে ক্ষমতার দম্ভ নয়, জবাবদিহিই রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।