স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

নাফিস আহমেদ

প্রকাশ:১২:৫৭,২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে একটি মহল ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের আড়ালে কেউ আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে কিংবা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিতে চাই, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু পতিত শক্তির দোসর এখনো দেশে রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চলছে, তার সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাইবোন জড়িত ছিলেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ সীমান্তের ওপারের ইশারায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

এর আগে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার সকাল থেকেই মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। একইভাবে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় শ্রমিকদের সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টার পর পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের কয়েকটি শিল্পকারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠককে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ খাতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বিবেচনার পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তা, উৎপাদন পরিবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে সরকারের আলোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দাবিগুলো কীভাবে সমাধান করা হবে এবং চলমান অস্থিরতা নিরসনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন