আওয়ামী লীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

ফাহিম খান

প্রকাশ:১৩:০০,২ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং দলটির সাংগঠনিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট বৈঠকে অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়া সাত নেতা হলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পর্যটনমন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এসব নেতার ভূমিকা তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা হওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে অভিযোগের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

সাত নেতার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ

মামলাটিতে সাত নেতার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বলতে অধীনস্থদের অপরাধ প্রতিরোধ বা অপরাধ সংঘটনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যর্থতার বিষয়টি বোঝানো হয়। তবে এ ধরনের দায় প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ সম্পর্কে জ্ঞান বা জানার যৌক্তিক কারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার বিষয়গুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হয়।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নেতারা বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীপু মনি ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে রয়েছে শাপলা চত্বরের মামলাও

এদিকে অভিযুক্ত সাত নেতার মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নাম ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলাতেও রয়েছে। ওই ঘটনায় তাদের আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফলে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পাশাপাশি শাপলা চত্বরের ঘটনাসংশ্লিষ্ট মামলাতেও তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশনের অভিযোগ প্রস্তুত এবং তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়া মানেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং দায়ের বিষয়গুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনগত যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন