তানভীর খান
প্রকাশ:১৯:৫৪,১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ওয়ারীতে বাসার ভেতরে বিশেষায়িত ল্যাব তৈরি করে কুশ নামের সিনথেটিক মাদক চাষের ঘটনায় আলোচিত মূল হোতা তৌসিফ হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিটে নিজের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তৌসিফের মাদক কারবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালিয়ে কুশ চাষের জন্য তৈরি বিশেষ ল্যাবের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য সংগ্রহ করা কুশ এবং চাষের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে তৈরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষেও কুশ চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকার সময় কুশ চাষের কৌশল শেখেন তৌসিফ। দেশে ফিরে নিজের বাসায় ল্যাব স্থাপন করে শুরু করেন চাষ। এমনকি বিদেশে অবস্থান করেও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এ কাজে তার এক বান্ধবী সহযোগিতা করতেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
এর আগে ওই বান্ধবীর মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে ৩২ পিস ইয়াবা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বান্ধবী ও তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তৌসিফকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল ডিএনসি। অবশেষে রোববার নিজ বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন তৌসিফ। তার মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে ডিএনসি।
উদ্ধার করা ইয়াবা ও গাঁজা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তৌসিফের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি আগের কুশ ল্যাবের মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।