নিরাপত্তা চাইতে থানায় গিয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশ:১৯:১০,১ নভেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা চাইতে থানায় গিয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলায় অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে ওই নারী গামহারিয়া থানায় যান। সেখানে থানার ভেতরেই এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ওই নারীর অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে থানায় যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে পুলিশের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে থানায় দায়িত্বরত সদস্যরা তাঁকে বিশ্রামের জন্য একটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে অবস্থানকালে থানার ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত এক কনস্টেবল তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালান।

ঘটনাটি জানার পর সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসপি) মনোজ স্বর্গিয়ারী তদন্তের নির্দেশ দেন। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গামহারিয়া থানার ওসি এবং আরও চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এসপি। বরখাস্ত হওয়া পাঁচ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়।

এদিকে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কনস্টেবলের পরনে থাকা পোশাক আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। সেগুলো পরীক্ষার জন্য রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি পুলিশের জবাবদিহি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঝাড়খণ্ড রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য আদিত্য সাহু অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনে জবাবদিহির অভাবের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় পদায়ন নেন। পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ছত্রচ্ছায়ায় বালু, লৌহ আকরিক ও কয়লা চুরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে রাজ্যের ক্ষমতাসীন জেএমএম, কংগ্রেস ও আরজেডি জোটের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে বলে দাবি করেন বিজেপির এই নেতা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন