আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ:১৬:১৬,২ নভেম্বর ২০২৬
বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের একটি পর্বে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে করা মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী ও মনোবিজ্ঞানী সন্দীপ্তা সেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কথোপকথনে বিজয় জানিয়েছিলেন, রাশমিকার কাছ থেকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার পরও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সময় নিয়েছিলেন। বিষয়টি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে নানা মন্তব্য ও মিম ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে সন্দীপ্তা মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে আগে প্রেমের প্রস্তাব দেবেন কিংবা কে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেবেন, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে বাইরের মানুষের এত আলোচনা কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সন্দীপ্তার মতে, প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতার ওপর নির্ভর করে তিনি নিজের অনুভূতি কতটা প্রকাশ করবেন। কেউ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ নীরব থাকতেই পছন্দ করেন। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা উচিত নয়।
রাশমিকা ও বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া ব্যাখ্যার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতটা বিস্তারিত কথা বলার প্রয়োজন কেন অনুভব করলেন তাঁরা? সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা প্রকাশ্যে বলা উচিত আর কতটা ব্যক্তিগত পরিসরে রাখা উচিত, সেই আলোচনাও সামনে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই তারকা জুটির প্রেমের গল্প নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে রাশমিকা নাকি বিজয়কে ১০০ বার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অথচ সম্পর্ককে বিয়ের দিকে এগিয়ে নিতে সময় নিয়েছিলেন বিজয়—এমন মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।
সন্দীপ্তার মতে, কোনো তারকা যুগলকে পর্দায় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে হাসিখুশি দেখালেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিখুঁত, এমনটি ভাবার কারণ নেই। একইভাবে বাইরে থেকে কোনো সম্পর্কের জটিলতা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তিনি মনে করেন, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকতেই পারে। তবে সেই আগ্রহ যেন তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণ না হয়।
শেষ পর্যন্ত কে কার সঙ্গে সম্পর্কে থাকবেন, কত দিন একসঙ্গে জীবন কাটাবেন কিংবা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কতটা কথা বলবেন—সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দুজন মানুষেরই। তাই রাশমিকা ও বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত বিচার-বিশ্লেষণ না করে তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই জরুরি বলে মনে করেন সন্দীপ্তা সেন।