শেকৃবি প্রতিনিধি:
প্রকাশ:১৭:০৭,২ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে গবেষণা ও সবুজায়নের কাজে ব্যবহারের দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষাবাদ করেন তারা।
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামার থেকে দুটি ট্রাক্টর নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে সেখানে থাকা মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেন। এরপর ট্রাক্টর চালিয়ে মাঠের বিভিন্ন অংশে চাষাবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, জায়গাটি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা বেশ কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে কৃষি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সবুজায়নের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়ে মেলা বন্ধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলা বন্ধ না হওয়ায় মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠ থেকে অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর এক দিনের মধ্যে মাঠের সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল আয়োজক কমিটি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী হাসান বলেন, ‘এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।’
অন্যদিকে, মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান অভিযোগ করেন, মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর তারা মালামাল সরিয়ে নিতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।’
মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে গবেষণা ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।