ট্রাম্পের ঘাঁটি টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের বড় চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশ:১৭:১৭,২ নভেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের ঘাঁটি টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী জেমস টালারিকোকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, টালারিকোর হাত ধরে ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো টেক্সাসের সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে আসতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। টেক্সাসে সিনেটের একটি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে অঙ্গরাজ্যটিতে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচনায় এসেছে।

টেক্সাসের রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ ব্রেন্ডান স্টেইনহাউজার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তা শুধু টেক্সাসেই নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হবে। তাঁর মতে, এমন ফলাফল দলটিকে নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

নির্বাচনটি ঘিরে দুই দলের ব্যাপক প্রচারের কারণে টেক্সাসের সিনেট আসনের লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টালারিকো কে, কেন তাঁকে ঘিরে আলোচনা

রাজনীতিতে জেমস টালারিকোর উত্থান অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ২০২৫ সালেও তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তুলনামূলকভাবে অপরিচিত একজন ডেমোক্র্যাট নেতা ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর উপস্থিতি ও জনসমর্থন দলটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে টেক্সাসের লাবক শহরে যান টালারিকো। সেখানে তাঁকে একনজর দেখতে ফিয়েস্তা সেন্টারে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভবন ছাড়িয়ে পার্কিং লট পেরিয়ে ব্যস্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে যায় সমর্থকদের ভিড়। প্রায় তিন হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য দেন তিনি। বাইরে আরও প্রায় এক হাজার মানুষ স্পিকারের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শোনেন।

টালারিকো খ্রিষ্টান ধর্মযাজক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা, রাজনীতিতে বিপুল অর্থের প্রভাব এবং দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। সিনেটে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

লাবকের সমাবেশে টালারিকো বলেন, ‘টেক্সাসের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। চরমপন্থা ও দুর্নীতির দিন শেষ। বিভেদ সৃষ্টির রাজনীতিও আর নয়। মানুষ এখন নতুন কিছু চায়।’

তবে টালারিকোকে ঘিরে আগ্রহ থাকলেও ভোটের ফল নিয়ে সবার মধ্যে সমান আশাবাদ নেই। লাবকের পাশের হকলি কাউন্টির ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যারন গনজালেজ বলেন, ‘এটা দেখতে সত্যিই দারুণ লাগছে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।’

অন্যদিকে, টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অ্যান্ড্রু রবিনসনের কাছে টালারিকোর বক্তব্য ভালো লেগেছে। তবে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের অতীতের নির্বাচনী ব্যর্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয়ও প্রকাশ করেছেন। রবিনসন বলেন, ‘টালারিকো জিতলে তা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার হবে। টেক্সাসে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা আমার খুব একটা ছিল না। তবে সরকার পরিবর্তন হলে এটা আমার এখানে থেকে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে।’

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দুই সপ্তাহের জন্য টালারিকোর স্লোগান ছিল—‘স্বচ্ছ দৃষ্টি, পূর্ণ হৃদয়, হারার কোনো সুযোগ নেই’।

উল্লেখ্য, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সাসে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান আধিপত্যের এই অঙ্গরাজ্যে এবার ডেমোক্র্যাটরা কতটা এগোতে পারেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ফলাফলে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন