মোঃ জালাল উদ্দিন
প্রকাশ:১৪:৫২,২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জবাবদিহি থাকায় বর্তমান সরকারের আমলে সেই সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সব ক্ষেত্রে এক নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার অনেক দরিদ্র পরিবার একাধিক পরিবারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। ফলে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বা সংযোগের তথ্য দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। শুধু পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে মানুষের জীবনযাত্রা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ এবং আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলোও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আয়োজকদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিজভী আরও বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন ধারণা ও প্রশ্ন উঠে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধান বের করা সহজ হবে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস তৈরি হবে। এতে প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
রিজভীর মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। এ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কার্যকর পরিকল্পনা, উপযুক্ত নীতিমালা এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
রিজভী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটও কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিটি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান
গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা খাতকে জবাবদিহির বাইরে রাখা হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
গণসংলাপে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা যাচাই এবং লাইফলাইন গ্রাহকদের ওপর পরিচালিত সমীক্ষার ফলাফল ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ধরনের গবেষণা বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি চিহ্নিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।