৭ দফা না মানলে এক দফার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

আহনাফ খান

প্রকাশ:১৫:০২,১ নভেম্বর ২০২৬

৭ দফা না মানলে এক দফার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি মেনে না নিলে তা এক দফায় পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেছেন, ‘গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। জাতির সঙ্গে দ্বিচারিতা ও বেঈমানির জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।’

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ সাত দফা দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় জোট।

 

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন চেয়েছিলেন। এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছিলেন, যেখানে কেউ স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারবে না।

 

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এসে একটি ভোটের রায় মানা হয়েছে, অন্যটির রায় মানা হয়নি। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈধ হলে অন্যটিও বৈধ, আর একটি অবৈধ হলে দুটিই অবৈধ। জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করেই তারা ঘরে ফিরবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জামায়াত আমির বলেন, সাত দফা দাবি মেনে না নিলে আগামীতে এক দফা দাবিতে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন।

 

সমাবেশে জোটের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

 

১. গণভোটের কাঙ্ক্ষিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করা। ২. জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। ৩. তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। ৪. চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো। ৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

 

এর আগে বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর পৌঁছায়। এ সময় স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

 

সমাপনী বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন