জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ

নিহান আহমেদ

প্রকাশ:১৩:৪১,৩১ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারসহ সাত দফা দাবি আদায়ে তৃতীয় দফায় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচিতে ঢাকা, বৃহত্তর ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার লংমার্চের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, শনিবার সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানী থেকে শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে লংমার্চের গাড়িবহর। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি এ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম ও প্রধান দাবি হচ্ছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এসব দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরাই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

যেসব স্থানে পথসভা ও জনসভা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লংমার্চ চলাকালে বিভিন্ন এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভা হবে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং বেলা ২টায় ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।

তবে গোপালগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে লংমার্চ গেলেও সেখানে কোনো সমাবেশ বা পথসভা করবে না ১১ দলীয় ঐক্য।

থাকছেন না এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা

এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয় গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে। দ্বিতীয় লংমার্চ হয় ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর পথে। ওই দুটি কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন।

তবে এবারের তৃতীয় লংমার্চে এনসিপির এই দুই শীর্ষ নেতা অংশ নিচ্ছেন না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১১ দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সব শরিক দল নিজ নিজ প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীও নিজস্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

যানজটে ভোগান্তির আশঙ্কা, দুঃখ প্রকাশ আয়োজকদের

লংমার্চে বিপুলসংখ্যক গাড়ি অংশ নেওয়ায় মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে স্বীকার করেছেন গোলাম পরওয়ার। এ জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা ও বৃহত্তর ফরিদপুর এবং খুলনা বিভাগের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এতে অংশ নেবেন। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে লংমার্চ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক দাবিদাওয়া আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৃতীয় দফার এই লংমার্চের মাধ্যমে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন