তাসনিম হোসেন
প্রকাশ:১৫:২২,৩১ অক্টোবর ২০২৬
দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। একই সঙ্গে বাড়ছে গুরুতর আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণের ঘটনা। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো, তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াত এবং রাইড শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তার কারণে দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি সড়ক নিরাপত্তা, চালকদের প্রশিক্ষণ কিংবা কার্যকর তদারকি। ফলে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালনা এবং ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ জনগোষ্ঠী। একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মুখেও ঠেলে দিচ্ছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন। ওই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশই ছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। এর আগের বছর ২০২৪ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৬০৯ জন। অন্যদিকে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে মোট ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এখন দেশের সড়ক নিরাপত্তার অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানির এই চিত্র মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সড়কে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো। এর পাশাপাশি মুখোমুখি সংঘর্ষ, বিপজ্জনকভাবে অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করা এবং ভারী যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের বড় একটি অংশ মোটরসাইকেল। বিআরটিএর হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৪টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল রয়েছে ৫০ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৮টি। অর্থাৎ নিবন্ধিত মোটরযানের একটি বিশাল অংশই মোটরসাইকেল। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল প্রতিদিন দেশের শহর, গ্রাম, আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে চলাচল করলেও সেই তুলনায় চালকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সড়কের অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। দুর্ঘটনাসংক্রান্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এই বয়সের তরুণদের মধ্যে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো, সামান্য ফাঁক পেলেই ঝুঁকি নিয়ে অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করা, ট্রাফিক সংকেত উপেক্ষা করা এবং পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জনের আগেই মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ পাওয়া, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব এবং সড়কে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অথচ এই তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি। সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্ব শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষতি নয়, জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানির ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ শিশু। নিহত শিশুদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩ হাজার ৫৪৭ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, ২ হাজার ৮৮৪ জনের বয়স ৬ থেকে ১২ বছর এবং ১ হাজার ৫৩২ জনের বয়স শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে। এই পরিসংখ্যান শিশুদের মোটরসাইকেলে অনিরাপদ চলাচল, অপ্রাপ্তবয়স্কদের চালক হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের ঝুঁকি এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া বন্ধ করা এবং শিশুদের নিরাপদ আরোহী হিসেবে বহনের বিষয়ে কঠোর সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ। সড়ক ও মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে চালক ও আরোহীদের গুরুতর আহত কিংবা নিহত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। মোটরসাইকেলে চালক ও যাত্রীদের ঘিরে কোনো সুরক্ষিত কাঠামো না থাকায় সামান্য ধাক্কাতেও তারা সড়কে ছিটকে পড়েন। এরপর পেছন থেকে আসা ভারী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন করার কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবা না পাওয়াও হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের ধীরগতির যান চলাচল করে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি থাকায় পথচারীদের চলাচলও বেশি। কিন্তু অনেক চালক এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালান। ফলে হঠাৎ সামনে কোনো যানবাহন, পথচারী কিংবা প্রতিবন্ধকতা চলে এলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে সড়কের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ডের অভাব এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা যুক্ত হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। অথচ দেশে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মধ্যে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। অনেক চালক নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করেন। আবার কোথাও চালক ভালো মানের হেলমেট পরলেও পেছনের আরোহীর মাথায় থাকে নিম্নমানের কিংবা সঠিকভাবে আটকানো হয়নি এমন হেলমেট। ফলে দুর্ঘটনার সময় মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হেলমেট পরলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; হেলমেটটি নির্ধারিত নিরাপত্তামানসম্পন্ন কি না, মাথার সঙ্গে সঠিকভাবে মানানসই কি না এবং যথাযথভাবে বাঁধা হয়েছে কি না, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশ মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে ঘটে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি। বিশেষ করে লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, মানসম্মত হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরের ভেতরে ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট গতিসীমা কার্যকর করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড গানের মাধ্যমে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের চলাচল নিরাপদ করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চালক ও পেছনের আরোহী উভয়ের জন্য সার্টিফায়েড ও মানসম্মত ফুল-ফেস হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অর্ধেকের বেশি মৃত্যুর পেছনে মাথায় গুরুতর আঘাতের ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ জানান, দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে শুধু হেলমেট পরলেই হবে না, সেটি মানসম্মত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ও সড়কে অনেক ক্ষেত্রে মানসম্মত হেলমেটের ব্যবহার দেখা যায় না। বর্তমান আইনে হেলমেট পরার কথা থাকলেও কী ধরনের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড স্পষ্ট করার প্রয়োজন। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান নির্ধারণ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, মোটরসাইকেল আমদানি ও বিক্রি অব্যাহত রেখে শুধু অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকার মোটরসাইকেল থেকে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু এই রাজস্বের বিপরীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব সরকারের কাছে নেই। মোটরসাইকেলের কারণে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। তার মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রকৃত আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব নির্ধারণ করা গেলে এ খাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোরতা, যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলের ওপর মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সহজলভ্য, নিরাপদ, উন্নত ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। গণপরিবহনের মান উন্নত হলে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও রাইড শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। পাশাপাশি নগর ও আঞ্চলিক পর্যায়ে পরিকল্পিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সড়কে যানবাহনের চাপ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার না করলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের এই ভয়াবহ চিত্র আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণকে কেবল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার দাবি উঠেছে।