সায়ান আহমেদ
প্রকাশ:১৪:৪৯,১ নভেম্বর ২০২৬
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামীকাল সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে বর্তমানে চলাচলরত বৈধ বা অবৈধ কোনো রিকশাই আপাতত বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ নিয়ে রিকশার মালিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল সুশৃঙ্খল করতে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে দেশের যেকোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।
তিনি জানান, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার থেকে ১৩টি সিটি করপোরেশনে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে চলাচলরত রিকশাগুলো এখনই বন্ধ করা হবে না।
ই-রিকশার ব্যাটারি নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই চার্জ করতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যাবে না বলেও জানান তিনি।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক ব্যবস্থা, রুট নির্ধারণ এবং যানবাহনের নির্দিষ্ট রং চূড়ান্ত করা হবে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, গতিসীমা, চার্জিং ব্যবস্থা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকায় যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।