সালমান ফারশি
প্রকাশ:১৬:২৪,২১ অক্টোবর ২০২৬
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারালে দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এক হিসাব অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া এসব সুবিধা উঠে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান গতকাল সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে একটি উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় ডব্লিউটিওর বাণিজ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বিএফটিআই এবং অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেখানে এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্য, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
রপ্তানি আয় কমার আশঙ্কা ৬৩৮ কোটি ডলার
ডব্লিউটিওর হিসাব অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উঠে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে। অর্থের হিসাবে সম্ভাব্য এই ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার। তবে এ হিসাব করা হয়েছে ২০১৮ সালের বাণিজ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। ফলে এটি বর্তমান রপ্তানি আয়ের ওপর ভিত্তি করে করা সরাসরি পূর্বাভাস নয়; বরং সুবিধাগুলো প্রত্যাহার করা হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তার একটি সম্ভাব্য চিত্র।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বড় অংশ তৈরি পোশাকশিল্পনির্ভর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সহায়তা করে। এলডিসি উত্তরণের পর এসব বাজারে বিদ্যমান সুবিধা কমে গেলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কের চাপ বাড়তে পারে। তখন একই বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর পণ্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মূল্য, উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সাধারণত পণ্যের দাম, মান, সরবরাহের সময় এবং উৎপাদনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বিবেচনা করে ক্রয়াদেশ দেন। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশি পণ্যের চূড়ান্ত দাম বেড়ে গেলে কিছু ক্রেতা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়া, বাজারের অংশ ধরে রাখা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপ ও বড় বাজারে বাড়তে পারে প্রতিযোগিতার চাপ
বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের বাজারও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি হিসেবে পাওয়া বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা এসব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করেছে। উত্তরণের পর সুবিধার ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী পরিবর্তন এলে রপ্তানিকারকদের নতুন শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
শুল্কের প্রভাব শুধু পণ্যের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়, মুনাফা, ক্রয়াদেশ এবং বাজার ধরে রাখার সক্ষমতাও জড়িত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নত করা, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করা বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে সব বাজারে একই ধরনের পরিবর্তন হবে, এমন নয়। কোন বাজারে কী ধরনের সুবিধা থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের বাণিজ্যনীতি, বিদ্যমান চুক্তি এবং উত্তরণ-পরবর্তী বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা। তাই সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের পাশাপাশি বাজারভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু রপ্তানি নয়, অন্যান্য খাতেও আসতে পারে পরিবর্তন
বিএফটিআইর উপস্থাপনায় বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের প্রভাব শুধু শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রপ্তানি প্রণোদনা, ওষুধশিল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা এবং উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতার জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিশেষ করে ওষুধশিল্পের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং এলডিসি হিসেবে পাওয়া বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন হলে শিল্পটির উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় নতুন করে নজর দিতে হতে পারে। একইভাবে উন্নয়ন সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাবে।
এ অবস্থায় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শুধু বিদ্যমান সুবিধার ওপর নির্ভর না করে উৎপাদন ও বাণিজ্যের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা গেলে উত্তরণের পরও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর
এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএফটিআইর সুপারিশের অন্যতম হলো রপ্তানি বহুমুখীকরণ। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে এ খাতে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হলে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ও প্রভাবিত হতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে নতুন পণ্য, নতুন শিল্প এবং নতুন বাজারের বিকাশ জরুরি।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে নতুন খাতের রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের গুণগত মান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, দক্ষ শ্রমশক্তি, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শুধু পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ালেই হবে না, রপ্তানি বাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে। প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন ক্রেতা ও গন্তব্য খুঁজে বের করা গেলে কোনো একটি বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি বা চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিএফটিআইর সুপারিশেও পণ্য ও বাজার—দুই দিকেই রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের তাগিদ
রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করাও জরুরি। বিএফটিআইর উপস্থাপনায় ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর মতো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানো গেলে অবকাঠামো, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যয় করার সুযোগ বাড়বে। বাংলাদেশের কর-রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং রাজস্ব সংগ্রহের ভিত্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি তাই অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, নীতিগত অনিশ্চয়তা হ্রাস, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব পদক্ষেপ রপ্তানি খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে।
প্রযুক্তি, শ্রমমান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে
আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশের শিল্প খাতকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও সক্ষম হতে হবে। উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলার সক্ষমতাও জোরদার করতে হবে।
বিশ্ববাজারে ক্রেতারা এখন শুধু কম দামের পণ্য নয়, উৎপাদনের পরিবেশ, শ্রমিকের অধিকার, পরিবেশগত প্রভাব এবং সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতার বিষয়গুলোও বিবেচনা করেন। তাই এসব ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারলে শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার পরও বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার সুযোগ থাকবে।
এ জন্য সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন, রপ্তানিকারক এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিনিয়োগ, গবেষণা, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর উত্তরণের সময় নির্ধারিত
নানা ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। এ আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধার বাস্তব চিত্রের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় ও নীতিগত পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।
সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কমছে না। বরং অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে তা কাজে লাগিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পনীতিও হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
উত্তরণের প্রস্তুতিই হবে বড় পরীক্ষা
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এই অর্জন ধরে রাখতে হলে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্যিক বাস্তবতার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে। ডব্লিউটিওর হিসাবে সম্ভাব্য রপ্তানি ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বর্তমান আয় কমে যাওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়; বরং বিদ্যমান সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি ইঙ্গিত।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বাজার সুবিধা ধরে রাখার জন্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কার এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের সামনে যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তেমনি অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বহুমুখী করার সুযোগও এনে দিতে পারে। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পরিবর্তনের জন্য কতটা কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া যায়। সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকি সামাল দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।