৪-৫ হাজার টাকায় স্মার্টফোন আনছে সরকার

সাইফুল রহমান

প্রকাশ:১২:১৭,২৮ অক্টোবর ২০২৬

৪-৫ হাজার টাকায় স্মার্টফোন আনছে সরকার

দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ফোনসেট উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে এসব ফোন উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা এবং ডিজিটাল সেবার আওতায় দেশের অধিকসংখ্যক মানুষকে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনের এ উদ্যোগের কথা জানান আইসিটি সচিব। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে দেশের ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তির রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। চীনভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অংশীদারত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। এতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

প্রান্তিক মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্মার্টফোন

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, দেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ফোনসেট উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তির সুবিধা সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অনলাইন লেনদেন, সরকারি সেবা গ্রহণ, যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু তুলনামূলক বেশি দামের কারণে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, প্রান্তিক পরিবার এবং সীমিত আয়ের মানুষের একটি অংশ এখনো প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে।

এ অবস্থায় স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ দামের মধ্যে উৎপাদিত ফোনের প্রসেসর, মেমোরি, ব্যাটারির সক্ষমতা, ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা এবং অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে উৎপাদন শুরুর সময়সীমা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাজারজাতকরণ পরিকল্পনাও এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

ডিজিটাল রূপান্তরে পাঁচ কৌশলগত অগ্রাধিকার

সম্মেলনে আইসিটি সচিব বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল সরকারি অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব খাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার চেষ্টা করা হবে। এর ফলে নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করা, সরকারি কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নীতিমালাটি সম্পন্ন করার আশা রয়েছে। এ নীতিমালার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিগত কাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ রূপকল্প সামনে রেখে সরকার একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, ডিজিটাল বিপণন, ক্লাউড প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিকাশ ঘটলে উৎপাদন, বিপণন, সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবায়ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে। শুধু কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, বাস্তবে কতজনের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।

ডিজিটাল অবকাঠামো এখন অর্থনীতির ভিত্তি

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ টেককানেক্ট এখন জাতীয় পর্যায়ের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এখানে সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। ডিজিটাল অবকাঠামো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সমৃদ্ধ, বিনিয়োগনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বর্তমানে সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ কারণে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, আধুনিক নেটওয়ার্ক, নিরাপদ তথ্যব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে পারে।

তবে ডিজিটাল সুবিধা শুধু বড় শহর বা উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, সাশ্রয়ী ডিভাইস এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনাকে এ বৃহত্তর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

হুয়াওয়ের সহযোগিতায় প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ

সম্মেলনে হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারের পাশাপাশি শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় হুয়াওয়ের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারের উপযোগী প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের সহযোগিতা ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুফল নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের নিজস্ব উৎপাদন ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনের মতো উদ্যোগের ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রদর্শনীতে স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সেবা

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট সরকারব্যবস্থা, স্মার্ট শিক্ষা, ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, স্মার্টফোন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

আয়োজনে প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, সরকারি সেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে সেবার মান উন্নয়ন এবং কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও দেশীয় উৎপাদনে গুরুত্ব

সরকারের পরিকল্পনায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তি সহজলভ্য করা, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তবে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উৎপাদন ব্যয়, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফোনের দাম নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার উপযোগিতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনা ও ডিজিটাল খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন এসব পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, কত দ্রুত সাশ্রয়ী ফোন বাজারে আসে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পান কি না, তার ওপরই উদ্যোগগুলোর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন