অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ:১৬:০৩,২৯ অক্টোবর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল। এর প্রভাবে বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের আর্থিক ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এসকে হাইনিক্স জানিয়েছে, উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের ব্যাপক চাহিদার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টানা ছয় প্রান্তিকে আয় ও পরিচালন মুনাফায় রেকর্ড হয়েছে তাদের।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে চিপের চাহিদা বাড়ায় সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে। এসকে হাইনিক্সের শক্তিশালী আর্থিক ফল এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেসের মতে, এআই প্রতিযোগিতায় বিপুল মূলধনি ব্যয় নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন এসকে হাইনিক্সের ফলাফল দেখিয়েছে, এই বিনিয়োগ থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করছে।
এআই খাতে আশাবাদ বাড়িয়েছে ক্লড এআইয়ের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের আর্থিক তথ্যও। শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য দাখিল করা নথিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের আয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার অ্যানথ্রপিকের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৬৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন কাঠামো ঘোষণার কথা জানায় ব্রডকম, সিটি, ব্ল্যাকস্টোন ও মরগ্যান স্ট্যানলি।
পেপারস্টোনের ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অ্যানথ্রপিকের আর্থিক তথ্য এআই খাতে বিনিয়োগের প্রবণতায় নতুন গতি এনেছে। আয় বৃদ্ধি, কম্পিউটিং ব্যয়ে দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এআই সরবরাহব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম বুধবার প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আর্থিক ফল প্রকাশের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক চিপ নির্মাতা স্যামসাংয়ের শেয়ারও ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক কোস্পি ৬ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। দেশটির চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়ার শেয়ারের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া অ্যাডভানটেস্টের শেয়ার ৩ শতাংশ এবং টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার ৪ শতাংশ বেড়েছে।
চিপ নির্মাতা টিএসএমসির শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রভাবে তাইওয়ানের শেয়ারবাজারেও বড় উত্থান দেখা গেছে। হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক সূচকও আগের দিনের ধারাবাহিকতায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বুধবার দিনের শেষ দিকে মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের আর্থিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে অ্যামাজন, অ্যাপল ও ইন্টেলের ফলাফল। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এআই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গত মাসে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার নীতি অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে বৈঠক-পরবর্তী বিবৃতি ও সংস্থাটির প্রধান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ইঙ্গিত খুঁজবেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে বলেও বাজারে প্রত্যাশা রয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের ফলের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। নির্বাচনের ফল দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করলে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে নেতানিয়াহু নতুন জোট সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থী গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, দেশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। তিনি নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে এআই খাতের আয় ও বিনিয়োগের ইতিবাচক চিত্র প্রযুক্তি শেয়ারে গতি ফিরিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারসহ বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলছে।