তুরস্কের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য চায় বাংলাদেশ

বাসস

প্রকাশ:১৭:২৬,৩০ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্কের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য চায় বাংলাদেশ

তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক ঐতিহাসিক সংহতি এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন।

ঢাকায় একটি হোটেলে তুরস্কের দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্কের প্রজাতন্ত্র ঘোষণার স্মরণে প্রতিবছর দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপন করা হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও অনেক সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার বা তার বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সহযোগিতা এখন রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বৈঠক দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমুখী করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও অব্যাহত সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার কথা উল্লেখ করেন আসাদুজ্জামান। তাঁর মতে, কবিতাটি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। এ সময় বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে তুরস্ক তার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে তুর্কি কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আরও পড়ুন