ডলারের দর বৃদ্ধি

রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

মোঃ নাবিন আহমেদ

প্রকাশ:১৩:২৭,২৯ অক্টোবর ২০২৬

রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে মার্কিন ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হারের ওপর চাপ সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলারের মোট চাহিদা ছিল ৮০ কোটি ডলার। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বিক্রি করেছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর আগে গত ২০ অক্টোবর প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ আগের বিক্রয়মূল্যের তুলনায় এবার বেশি দরে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকাররা জানান, বুধবার সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউসগুলোর কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার প্রস্তাব পায়। কয়েকটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরেও ডলার কিনেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রির পর রেমিট্যান্স হাউসগুলো তুলনামূলক কম দরে ডলার বিক্রির প্রস্তাব দিতে শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, বুধবার ডলারের বাজারে চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল বৈদেশিক মুদ্রায় বড় অঙ্কের পেমেন্টের দায়। এদিন ৩০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক পেমেন্ট থাকায় আমদানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তুলনামূলক কম থাকায় ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাজারদরে।

ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। তবে বাজারে ডলারের চাহিদা বেশি থাকলে এবং সরবরাহ তুলনামূলক কমে গেলে বিনিময় হারের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। বুধবারের লেনদেনেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে জানান ব্যাংকাররা।

এর আগে মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি। পরদিন বুধবার বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে মোট ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলার বিক্রির মাধ্যমে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানো এবং বিনিময় হারের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনে প্রবাসীরা দেশে ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করলেও বৈদেশিক পেমেন্টের চাপ এবং বাজারে ডলারের চাহিদার পরিবর্তন বিনিময় হারে প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের চাপ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন