লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ:১৪:৪৮,২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিশুর শরীরের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই নিজের শরীর, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ সম্পর্কে শিশুকে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। তবে অনেক অভিভাবকই বুঝতে পারেন না, ঠিক কোন বয়স থেকে এ বিষয়ে কথা বলা শুরু করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে সহজ ভাষায় শরীরের বিভিন্ন অংশ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শেখানো যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার ধরনও পরিবর্তন করতে হবে। একবার বুঝিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত কথাবার্তা ও অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা জরুরি।
শিশুর বয়স দুই থেকে তিন বছর হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের সঠিক নাম শেখানো শুরু করা যায়। ব্যক্তিগত অঙ্গ বা গোপনাঙ্গ সম্পর্কেও বয়সোপযোগী ভাষায় ধারণা দিতে হবে।
শিশুকে বোঝাতে হবে, শরীরের কিছু অংশ ব্যক্তিগত এবং সেগুলোর নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোনো বিষয়ে অস্বস্তি হলে যেন সে মা-বাবা বা বিশ্বস্ত অভিভাবককে জানাতে পারে, তা শেখানো প্রয়োজন।
পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা কিংবা পরিচর্যার প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড়দের সাহায্য নেওয়ার বিষয়টিও সহজভাবে বোঝাতে হবে। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বড়দের—এ কথাও তাকে বুঝিয়ে বলা জরুরি।
এ বয়সে শিশুকে ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পর্কে শেখানো যায়। কেউ এমনভাবে স্পর্শ করলে যাতে সে অস্বস্তি বোধ করে, তাহলে ‘না’ বলা, সেখান থেকে সরে যাওয়া এবং বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানানোর বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করুন।
তবে শুধু স্পর্শে ভালো বা খারাপ লাগার ভিত্তিতে নিরাপত্তা বিচার করতে শেখানো যথেষ্ট নয়। পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেও অনুপযুক্ত আচরণ হতে পারে। আবার চিকিৎসা বা পরিচর্যার প্রয়োজনে কিছু স্পর্শ প্রয়োজনীয় হতে পারে।
শিশুকে বোঝাতে হবে, কোনো ঘটনায় ভয় পেয়ে চুপ করে গেলে কিংবা প্রতিবাদ করতে না পারলেও তার কোনো দোষ নেই। সে যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং অনুপযুক্ত আচরণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে বোঝানো যায়।
কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করলে, ভয় দেখালে কিংবা কোনো ঘটনা গোপন রাখতে বললে শিশুকে বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানানোর পরামর্শ দিন। মা-বাবা, শিক্ষক বা পরিবারের অন্য কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি তাকে শেখাতে হবে।
শিশুকে আরও বোঝাতে হবে, কেউ উপহার দিয়ে, ভয় দেখিয়ে বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করে অনুপযুক্ত আচরণ গোপন রাখতে বললেও তা মানতে হবে না। একজনকে জানানোর পরও সাহায্য না পেলে অন্য বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে উৎসাহিত করুন।
শিশুর শরীর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে অভিভাবকের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিশু ভয়, লজ্জা কিংবা শাস্তির আশঙ্কা ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্নের কথা বলতে পারে।
গল্প, ছবি ও দৈনন্দিন ঘটনার উদাহরণ ব্যবহার করে বয়স অনুযায়ী বিষয়গুলো বোঝানো যেতে পারে। তবে ভয় দেখিয়ে বা অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি করে শেখানো উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুকে বোঝানো—নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকা, ব্যক্তিগত সীমারেখা প্রকাশ করা এবং অনিরাপদ পরিস্থিতিতে সাহায্য চাওয়া তার অধিকার। একই সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অভিভাবক ও দায়িত্বশীল বড়দের।
মনে রাখবেন: শিশুকে শরীরের নিরাপত্তা শেখানো কোনো এককালীন আলোচনা নয়। ছোটবেলা থেকে শুরু করে বয়স অনুযায়ী নিয়মিত কথোপকথনই শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।