জটিল কাজের জন্য নতুন দুই এআই মডেল আনল মেটা

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ:১৫:০৫,২৭ অক্টোবর ২০২৬

জটিল কাজের জন্য নতুন দুই এআই মডেল আনল মেটা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নত মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি ‘মিউজ ওয়ান্ডার’ ও ‘মিউজ ওয়ান্ডার ফুল’ নামে দুটি নতুন এআই মডেল উন্মোচন করেছে। মেটার দাবি, কোড লেখা, জটিল কাজ সম্পাদন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীর তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে মডেল দুটি উন্নত সক্ষমতা দেখিয়েছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাব নতুন মডেল দুটি তৈরি করেছে। উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতেই মেটার এ উদ্যোগ।

মেটার আগের ‘মিউজ স্পার্ক’ মডেলটি দ্রুত উত্তর দেওয়া ও কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। অন্যদিকে, নতুন মিউজ ওয়ান্ডার মডেলগুলো তুলনামূলক জটিল কাজ সামলানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় তথ্য মনে রাখবে এআই

নতুন মডেল দুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘অ্যাকটিভ মেমোরি’ বা সক্রিয় স্মৃতিশক্তি। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে মনে রাখা এবং পরবর্তী কাজে সেগুলো ব্যবহার করার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এমন এআই সহকারী তৈরি করা, যা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ সম্পর্কে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস আগের তথ্যও কাজে লাগাতে পারবে।

মেটার গবেষক কাভিয়া কোপারাপু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে মনে রাখার সক্ষমতা তৈরিতে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে।

মেটার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেমোরিবেঞ্চ পরীক্ষায় মিউজ ওয়ান্ডার ফেবল, ওপাস ও অ্যাস্ট্রার চেয়ে বেশি স্কোর করেছে। এ পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে শেখা এবং তথ্য মনে রাখার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

পারফরম্যান্স ও ব্যবহারের খরচ

মেটার প্রকাশিত মডেল কার্ড অনুযায়ী, কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ডে মিউজ ওয়ান্ডার ও মিউজ ওয়ান্ডার ফুলের ফলাফল ফেবল ৫.১ এবং জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার সঙ্গে তুলনীয়। তবে এসব ফল মেটার নিজস্ব পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীন মূল্যায়নে মডেলগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবহারের খরচের ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য। মেটার মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে মিউজ ওয়ান্ডার ব্যবহার করতে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য চার ডলার এবং প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য ২০ ডলার দিতে হবে। অন্যদিকে, মিউজ ওয়ান্ডার ফুল শুধু মিউজ কোডের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি এপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না।

মেটা জানিয়েছে, নতুন মডেল দুটি প্রতিষ্ঠানটির এআই এজেন্টগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও ব্যবহার করা হবে। মডেলগুলো তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত মেটার প্রমিথিউস ডেটা সেন্টারে।

গত বছরের আগস্টে এআই কার্যক্রম পুনর্গঠনের পর উন্নত মডেল তৈরির ক্ষেত্রে মেটার এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। নতুন মডেল দুটির মাধ্যমে জটিল কাজ সম্পাদন, কোডিং এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত এআই প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন