আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:১৭:৫১,৩০ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি আপাতত চালু হচ্ছে না। ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারির আবেদন ১ নভেম্বরের মধ্যে গ্রহণ শুরু করার বিষয়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন আপিল আদালত। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের স্থগিত রাখা ডিভি লটারি কার্যক্রম আপাতত বন্ধই থাকছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন অর্থবছরের ডিভি লটারি কার্যক্রম শুরু না করায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ‘রেড ইগল ল’ নামের একটি অভিবাসন আইন সংস্থা এ বিষয়ে মামলা করে। গত ১৪ অক্টোবর নিম্ন আদালত এক আদেশে ১ নভেম্বরের মধ্যে ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু করার নির্দেশ দেন।
তবে নিম্ন আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। জরুরি আবেদনের পর বৃহস্পতিবার তিন বিচারকের একটি আপিল বেঞ্চ নিম্ন আদালতের নির্দেশনার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরুর বাধ্যবাধকতা থেকে আপাতত মুক্তি পেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
আপিল আদালত অবশ্য তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিভি লটারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা যথাযথ নয়। তবে মামলাকারী আইন সংস্থাটির এ বিষয়ে সরাসরি আইনি অধিকার বা ‘লিগ্যাল স্ট্যান্ডিং’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারকেরা। তাঁদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে। কোনো আইন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য এ কর্মসূচি চালু করা হয়নি।
১৯৯০ সাল থেকে চলছে ডিভি লটারি
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি ১৯৯০ সালে চালু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫ হাজার মানুষকে অভিবাসী ভিসা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছে ডিভি লটারি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি আকাঙ্ক্ষিত সুযোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কর্মসূচিটির যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী সব দেশের নাগরিক প্রতিবছর আবেদন করতে পারেন না। কোন দেশ আবেদন করার যোগ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের নির্ধারিত নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারি কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের স্বপ্ন দেখা হাজারো মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আবেদন শুরুর অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না, কবে নাগাদ নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
নতুন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
এদিকে আপিল আদালতে সাময়িকভাবে ধাক্কা খেলেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রেড ইগল ল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এবার যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মভিসাধারী নাগরিককে মামলার বাদী করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
আইন সংস্থাটির ধারণা, নতুন মামলায় এমন একজন ব্যক্তিকে সামনে আনা হলে তাঁর সরাসরি আইনি স্বার্থের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরা সহজ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নতুন মামলা কবে দায়ের করা হবে কিংবা আদালত কী সিদ্ধান্ত দেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি। আপিল আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশের কারণে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্ধারিত সময়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মূল মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ডিভি লটারি কার্যক্রম কবে আবার শুরু হবে। তত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
সূত্র: নিউজউইক