লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ:১৪:৫২,২৭ অক্টোবর ২০২৬
চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত যত্নের বিকল্প নেই। তবে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে চুল পড়তে পারে। চুল পাতলা হয়ে গেলে অনেকেই নানা ধরনের তেল, হেয়ার মাস্ক ও প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কিন্তু চুলের সঠিক যত্নের পাশাপাশি প্রয়োজন সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
চুল পড়ার কারণ বুঝে যত্ন নিলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য মেনে চলতে পারেন কয়েকটি নিয়ম।
১. তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন
চুলের শুষ্কতা কমাতে এবং চুল নরম রাখতে নারিকেল তেল বা আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু করার আগে অল্প তেল নিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। এতে মাথার ত্বকের শুষ্কতা কমতে এবং চুলের গোছা ভাঙা রোধ করতে সাহায্য হতে পারে।
তবে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলেই চুলের বৃদ্ধি বাড়বে বা চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন প্রমাণ নেই। স্ক্যাল্পে খুশকি বা চুলকানির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
২. হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
চুলের রুক্ষতা কমাতে অ্যালোভেরা জেল বা উপযোগী কন্ডিশনিং উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ক্যাস্টর অয়েল, পেঁয়াজের রস কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান চুল ঘন করে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। পেঁয়াজের রস বা অন্য কোনো উপাদানে জ্বালাপোড়া, চুলকানি কিংবা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৩. খাবারে রাখুন পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টি
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, দুধ, দই, ডাল কিংবা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
পাশাপাশি পালংশাক, ব্রকলি, অন্যান্য শাকসবজি এবং কমলা, পেয়ারা ও স্ট্রবেরির মতো ফল খেতে পারেন। এসব খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়।
আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন বা অন্য কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে চুল পড়তে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
৪. চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
চুল পরিষ্কার রাখতে নিজের স্ক্যাল্প ও চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। শ্যাম্পু মূলত মাথার ত্বক পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করুন এবং চুলের দৈর্ঘ্যে কন্ডিশনার লাগান।
চুল পাতলা হলে ভলিউম বাড়ানোর উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল সাময়িকভাবে ঘন দেখাতে পারে। তবে এ ধরনের পণ্য চুল পড়ার মূল কারণ দূর করে না।
এ ছাড়া অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস কমিয়ে দিন। এতে চুল ভেঙে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
৫. মানসিক চাপ কমান ও পর্যাপ্ত ঘুমান
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সঙ্গে অতিরিক্ত চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি এবং বিশ্রামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
মনে রাখবেন, চুল পড়ার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ওষুধ কিংবা সাম্প্রতিক অসুস্থতার কারণেও চুল পাতলা হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হলে, মাথায় গোলাকার টাক দেখা দিলে, স্ক্যাল্পে প্রদাহ বা তীব্র চুলকানি হলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক কারণ শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
চুলের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার এবং সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।