অফিসে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করার ৬ সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ:১৪:৫৫,২৭ অক্টোবর ২০২৬

অফিসে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করার ৬ সহজ উপায়

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসের কাজ সামলাতে গিয়ে অনেকেই ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া, বিশ্রাম কিংবা শরীরচর্চার সময় পান না। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার কারণে শরীরে ক্লান্তি জমতে পারে। পাশাপাশি পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা, চোখে অস্বস্তি এবং হাতের কবজিতে ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

একটানা কাজ করার ফলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, যা কর্মদক্ষতার ওপরও প্রভাব ফেলে। তবে কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর ও মনকে সতেজ রাখা সম্ভব। জেনে নিন অফিসে ক্লান্তি কমানোর ছয়টি উপায়।

১. মাঝেমধ্যে হাঁটাহাঁটি করুন

দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসে কাজ না করে কিছুক্ষণ পরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। অফিসের ভেতরে অল্প হাঁটাহাঁটি করুন কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো কাজ নিজে করতে হেঁটে যান। এতে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসে বিরতি আসবে এবং শরীর কিছুটা সক্রিয় থাকবে।

২. ছোটখাটো কাজ নিজেই করুন

অফিসে প্রিন্ট করা কাগজ সংগ্রহ, ফটোকপি নেওয়া কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মতো ছোটখাটো কাজ সম্ভব হলে নিজেই করুন। এতে কাজের ফাঁকে স্বাভাবিকভাবে কিছুটা চলাফেরা করা হবে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার প্রবণতাও কমবে।

৩. কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন

একটানা কাজ করলে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। তাই কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের বিরতি নিন। এ সময় পানি পান করতে পারেন, হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেন।

নিয়মিত ছোট বিরতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে এবং কাজের একঘেয়েমি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৪. বসার ভঙ্গি ঠিক রাখুন

কম্পিউটারে কাজ করার সময় পিঠের যথাযথ সমর্থন নিশ্চিত করুন। পা মেঝেতে সমানভাবে রাখুন এবং কাঁধ শিথিল রাখার চেষ্টা করুন। কিবোর্ড ও মাউস এমনভাবে রাখুন, যাতে হাত ও কবজি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।

দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই কাজের পরিবেশ যতটা সম্ভব আরামদায়ক করে তুলুন।

৫. চোখকে বিশ্রাম দিন

দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক লাগতে পারে, ঝাপসা দেখার সমস্যা কিংবা মাথাব্যথাও হতে পারে। এ সমস্যা কমাতে প্রতি ২০ মিনিট পর প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকানোর অভ্যাস করতে পারেন। এটি ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ নামে পরিচিত।

পাশাপাশি নিয়মিত চোখের পলক ফেলুন এবং পর্দার উজ্জ্বলতা ও অবস্থান আরামদায়ক রাখুন।

৬. কম্পিউটারের পর্দা সঠিক দূরত্বে রাখুন

কম্পিউটারের পর্দা চোখ থেকে সাধারণত প্রায় ২০–২৮ ইঞ্চি দূরে রাখা আরামদায়ক হতে পারে। পর্দার ওপরের অংশ চোখের সমতলে বা সামান্য নিচে রাখার চেষ্টা করুন। এতে ঘাড় বারবার বাঁকিয়ে কাজ করার প্রয়োজন কমে।

পর্দায় লেখা পড়তে অসুবিধা হলে ফন্টের আকার বাড়িয়ে নিন। এতে চোখ কুঁচকে তাকানো কিংবা সামনে ঝুঁকে বসার প্রবণতা কমতে পারে।

সুস্থ থাকতে দৈনন্দিন অভ্যাসেও নজর দিন

অফিসের ক্লান্তি সামলাতে কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়ার পাশাপাশি সময়মতো খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং রাতে যথেষ্ট ঘুমানো জরুরি। প্রতিদিনের রুটিনে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম রাখলেও উপকার পাওয়া যায়।

মনে রাখবেন, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও শরীরকে একটানা বসিয়ে রাখা প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট বিরতি, সঠিক বসার ভঙ্গি এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কর্মদিবসে ক্লান্তি কমাতে ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন