লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ:১৫:৫৩,২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শরীর সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাবার ও পরিবেশের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসে। এসব উপাদান থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শরীরের বর্জ্য অপসারণে লিভার ও কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কিছু ঘরোয়া অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।
লেবু পানি পান করুন
দিনের শুরুতে এক গ্লাস লেবু পানি পান করা ভালো অভ্যাস হতে পারে। এটি শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে এবং লেবু থেকে কিছু ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে লেবু পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে বা শরীরের পিএইচ ভারসাম্য পরিবর্তন করে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একইভাবে আপেল সাইডার ভিনেগারকে শরীর পরিষ্কারের বিশেষ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করারও যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
সঠিক খাবার নির্বাচন করুন
শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার রাখা জরুরি। বেরি জাতীয় ফল, ব্রকলি, ফুলকপি, রসুন ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও লবণ গ্রহণ কমানোও উপকারী।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করুন
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, চিয়া সিড ও তিসির বীজ ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে ওমেগা-৩ সরাসরি শরীরের টক্সিন দূর করে—এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত নয়।
রান্নায় স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করুন
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রান্নায় উপযুক্ত তেল নির্বাচন করা প্রয়োজন। অলিভ অয়েল ও অন্যান্য অসম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ তেল পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব তেল একই তাপমাত্রায় সমানভাবে স্থিতিশীল থাকে না। তাই রান্নার ধরন অনুযায়ী তেল নির্বাচন করা এবং একই তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার না করাই ভালো। ফ্ল্যাক্সসিড অয়েলে ওমেগা-৩ থাকলেও এটি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত নয়।
পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণে লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করে। তাই বিশেষ কোনো ডিটক্স পানীয় বা ডায়েটের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হেলদি বিল্ডার্জ