স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ:১৩:৩৮,২৭ অক্টোবর ২০২৬
ব্যালন ডি’অরের মূল পুরস্কার জেতা হয়নি লামিন ইয়ামালের। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকা। বয়সভিত্তিক সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি ব্যালন ডি’অরের মঞ্চেও গড়েছেন অনন্য কীর্তি। এমন দুটি রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি, যা ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারেও নেই।
প্রথম রেকর্ডটি বয়সভিত্তিক সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি নিয়ে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতে টানা তিনবার এই সম্মান অর্জনের কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন সাফল্য তাঁর প্রতিভা ও ধারাবাহিকতার পরিচয় তুলে ধরেছে।
তবে ইয়ামালের দ্বিতীয় কীর্তিটি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০ বছর বয়সে পা রাখার আগেই তিনবার ব্যালন ডি’অরের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে এই পুরস্কারের তালিকায় অষ্টম স্থানে ছিলেন ইয়ামাল। পরের বছর উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৬ সালেও সেরা তিনের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
তুলনায় দেখা যায়, মেসিকে প্রথমবার ব্যালন ডি’অরের সেরা দশে জায়গা করে নিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল কয়েক বছর। অন্যদিকে, রোনালদো প্রথমবার এই তালিকায় জায়গা পান ২২ বছর বয়সে। সেই বিবেচনায় অল্প বয়সে ইয়ামালের ধারাবাহিক সাফল্য ফুটবলবিশ্বে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইয়ামালের এমন অর্জনের পেছনে রয়েছে বার্সেলোনার হয়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৮টি গোল করিয়েছেন তিনি। গোল করা এবং গোলের সুযোগ তৈরি—দুই ক্ষেত্রেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।
বার্সেলোনার হয়ে তাঁর পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের সাফল্যও যুক্ত হয়েছে। লা লিগায় একাই ১৬ গোল করার পাশাপাশি ১১টি গোলে সহায়তা করেন ইয়ামাল। মৌসুম শেষে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলসহায়তাকারীর স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি জেতেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
ক্লাবের সাফল্যের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের হয়েও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন তিনি। প্রতিযোগিতায় আট ম্যাচ খেলে একটি গোল করেন এই তরুণ তারকা। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।
সব মিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য, গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতা—সবকিছু মিলিয়ে ইয়ামালের উত্থান এখন ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়। মূল ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও বয়সভিত্তিক পুরস্কার এবং অল্প বয়সে একাধিকবার সেরা দশে জায়গা করে নেওয়ার কীর্তি তাঁকে ইতিমধ্যে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন ধারাবাহিক অর্জন ইয়ামালের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে তিনি নিজের সাফল্যের এই ধারা ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।