স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ:১৭:২৪,৩০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতীয় জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে গৌতম গম্ভীরের। তবে এরই মধ্যে তাঁকে আইপিএলে ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। মেন্টর কিংবা কোচ হিসেবে গম্ভীরকে দলে পেতে আগ্রহী দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে ভারতীয় দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরে রয়েছেন গম্ভীর। জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে এই চুক্তি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ থাকলেও তাঁকে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার পর ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক এই ভারতীয় ওপেনার। এর আগে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কেকেআরের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক জাগরণ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আইপিএল মৌসুমের আগে গম্ভীরকে দলে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর মধ্যে তাঁর সাবেক দল কেকেআর ছাড়াও রাজস্থান রয়্যালসের নাম রয়েছে। সম্প্রতি গম্ভীরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজস্থান রয়্যালসের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে কোচ কিংবা মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, আগ্রহী দলগুলোর একটি আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। অন্য দলটি এখনো আইপিএলের শিরোপা জিততে পারেনি। তবে দলগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
টেস্ট ক্রিকেটে গম্ভীরের কোচিং সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর কৌশলগত দক্ষতা নিয়ে প্রশংসা রয়েছে। তাঁর অধীনে ভারতীয় দল দুটি আইসিসি শিরোপা, একটি এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইপিএলে মেন্টর হিসেবে গম্ভীরের সাফল্যও কম নয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর অধীনে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রথম দুই মৌসুমেই প্লে-অফে জায়গা করে নেয়।
লখনউ ছাড়ার পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহ-মালিক শাহরুখ খানের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে পুরোনো ঠিকানায় ফেরেন গম্ভীর। তাঁর কৌশলগত পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে আইপিএল শিরোপা জেতে কেকেআর।
তবে গম্ভীর ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেকেআরের পারফরম্যান্সে অবনতি দেখা যায়। পরবর্তী দুই মৌসুমে দলটি যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম স্থানে থেকে আসর শেষ করে। কোনোবারই প্লে-অফে উঠতে পারেনি তারা।
একইভাবে গম্ভীরের বিদায়ের পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যায়। দলটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সপ্তম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। ২০২৬ সালে তাদের অবস্থান আরও নিচে নেমে যায় দশম স্থানে।
সব মিলিয়ে আইপিএলে গম্ভীরের অতীত সাফল্য তাঁকে আবারও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আকর্ষণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে ভারতীয় দলের সঙ্গে তাঁর চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিই এখন আইপিএলে তাঁর ফেরার সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় বিষয়।