২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে এমসিজিতে

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ:১৬:০৭,৩১ অক্টোবর ২০২৬

২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে এমসিজিতে

২০২৮ সালের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আসন্ন এই আসরের ফাইনাল ম্যাচটি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘৯নিউজ’। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়াম।

এর আগে ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এমসিজিতেই মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। আগামী ২০২৮ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বকাপের এই আসর। আটটি সম্ভাব্য শহরে মোট ৫৫টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এখনো ভেন্যু ও ম্যাচ বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি আইসিসি।

প্রায় এক লাখ দর্শক ধারণক্ষমতার এমসিজিতে ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো। অন্যদিকে একটি সেমিফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে পার্থের অপটাস স্টেডিয়াম। অপর সেমিফাইনালটি হওয়ার কথা নিউজিল্যান্ডে। এ ক্ষেত্রে সিডনি ও অ্যাডিলেডের সেমিফাইনাল আয়োজনের সম্ভাবনা কম।

ভারতীয় টেলিভিশন দর্শকদের সময় বিবেচনায় পার্থের ভেন্যুটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে সূচি অনুযায়ী তাদের ম্যাচটি পার্থে আয়োজন করা হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য পাঁচটি ভেন্যু হলো মেলবোর্ন, সিডনি, অ্যাডিলেড, পার্থ ও ব্রিসবেন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, ক্রাইস্টচার্চ ও ওয়েলিংটনে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে ৫৫টি ম্যাচ কীভাবে ভাগ হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে এমসিজির রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। ২০২২ সালের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের পাশাপাশি ১৯৯২ ও ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২০ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মাঠে।

এদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা ঘিরে বিরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ হারাতে পারে অ্যাডিলেড ওভাল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল বেশ কয়েকটি রাজ্য অ্যাসোসিয়েশন, যার মধ্যে ছিল অ্যাডিলেডও।

সিএর অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাব তাদের ‘টিম পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ (টিপিএ)-এর বাণিজ্যিক অংশ বিক্রি করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মতবিরোধের প্রভাব পড়েছে ২০২৮ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ভেন্যু নির্বাচনে। অথচ ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল অ্যাডিলেড ওভালে।

এবারের বিশ্বকাপে আরও একটি বড় পরিবর্তন আনছে আইসিসি। সেমিফাইনালের আগে যুক্ত করা হচ্ছে দুটি এলিমিনেটর ম্যাচ। এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন এই ফরম্যাটের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ২০২৮ বিশ্বকাপ থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্বে ২০টি দল পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি দল। সেখান থেকে শীর্ষ দুটি করে মোট ১০টি দল উঠবে দ্বিতীয় পর্বে, যেখানে কার্যকর হবে ‘সুপার টেন’ পদ্ধতি। এই পর্বে পাঁচটি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপ গঠন করা হবে।

সুপার টেনের দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। অন্যদিকে দুই গ্রুপের রানার্স-আপ ও তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে ক্রস-পুল এলিমিনেটর ম্যাচ। এই দুই ম্যাচের বিজয়ী দলও সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

নতুন এই ফরম্যাট ও ভেন্যু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে আগের আসরগুলোর তুলনায় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর।

আরও পড়ুন