স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ:১৭:২৫,৩০ অক্টোবর ২০২৬
কোয়ার্টার-ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে উড়িয়ে দেওয়া, এরপর সেমি-ফাইনালে গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা—দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলেছিল বাংলাদেশের কিশোররা। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না। ফাইনালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের ই-টায়ারে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। দলটির হয়ে হ্যাটট্রিক করেন মোহি। অন্য গোলটি করেন পেনেল। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তাকিব।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪তম মিনিটে মোহির গোলে এগিয়ে যায় তারা। দুই মিনিট পর পেনেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আফ্রিকার দলটি।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২৩তম মিনিটে তাকিবের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় তারা।
কিন্তু বাংলাদেশের সেই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। ২৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আবারও বাড়িয়ে দেন মোহি। এরপর ৩৯তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে ই-টায়ারের শিরোপা নিশ্চিত করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
ফাইনালে হারলেও নকআউট পর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল বেশ প্রশংসনীয়। গত বৃহস্পতিবার কোয়ার্টার-ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের কিশোররা।
ম্যাচের নবম মিনিটে বায়জিদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২৪তম মিনিটে পাভেল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৪তম মিনিটে শাবোকের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০। এর দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন পাভেল।
এরপর সেমি-ফাইনালে গ্যাবনের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ১৪তম মিনিটে রাতুলের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাতেই নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ১৮৯টি দেশের দল। আটজন করে খেলোয়াড় নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচের দৈর্ঘ্য ২০ মিনিটের দুই অর্ধ।
ছয়টি ভিন্ন টায়ারে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতায় ই-টায়ারের ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। সামগ্রিক অবস্থানে ১৩০তম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশের কিশোররা।