অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আরও বড় দুঃসংবাদ পেলেন নাহিদ রানা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ:১৩:১০,২৫ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আরও বড় দুঃসংবাদ পেলেন নাহিদ রানা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য দুঃসংবাদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলা হচ্ছে না পেসার নাহিদ রানার—এমনটা আগেই জানা গিয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাঁর চোটের যে অবস্থা ধরা পড়েছে, তাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। নিতম্বের ব্যথা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া নাহিদের ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও এই গতিময় পেসারের খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ যখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে, ঠিক তখনই নাহিদের চোট দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রয়োজন। এমন সময়ে দলের অন্যতম দ্রুতগতির পেসারকে না পাওয়ার শঙ্কা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে নাহিদের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং তিনি পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ধরা পড়েছে ল্যাব্রামের চোট

নাহিদের চোটের বিষয়ে বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নাহিদের ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা ধরা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ইতিমধ্যে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং তিনি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তার বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

চোটের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর নাহিদের মাঠে ফেরার সময় নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে। আপাতত তাঁর পুনর্বাসন কতটা দ্রুত এগোয় এবং বোলিং শুরু করার পর শারীরিকভাবে কতটা স্বস্তি অনুভব করেন, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

ল্যাব্রাম হলো কোনো কোনো জয়েন্টের সংযোগস্থলে থাকা বিশেষ ধরনের নমনীয় টিস্যু, যা জয়েন্টকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। এই টিস্যুতে আঘাত বা ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে। তবে নাহিদের ক্ষেত্রে চোটের তীব্রতা, পুনর্বাসনে সাড়া এবং পুরোপুরি বোলিংয়ে ফেরার সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিশেষ করে একজন ফাস্ট বোলারের জন্য পুরো শক্তিতে দৌড়ে এসে বল করা, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বারবার উচ্চগতিতে বোলিং করার সক্ষমতা ফিরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই বোলিং শুরু করতে পারলেই যে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নেই নাহিদ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য শুক্রবার ঘোষিত বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি নাহিদ রানার। চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই তাঁর ছিটকে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদের গুরুত্ব মূলত তাঁর গতি ও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলার সামর্থ্যের কারণে। দ্রুতগতির বল দিয়ে ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলা এবং উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা তাঁর অন্যতম শক্তি। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাঁকে না পাওয়া দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তাঁকে পাওয়া যাবে কি না। কারণ, পরবর্তী সফরের আগে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য খুব বেশি সময় হাতে নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শুরু হওয়ার কথা ১৫ নভেম্বর। এই সফরে দুই টেস্টের পাশাপাশি তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে।

বিসিবির ওই কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগেই নাহিদের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী নন। তবে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে পুনর্বাসন কতটা দ্রুত এগোয় এবং তিনি কবে পুরোপুরি বোলিং করার মতো অবস্থায় পৌঁছান, তার ওপর।

এ বিষয়ে বিসিবির কর্মকর্তা বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে যদি সে সুস্থ হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারে।’

অর্থাৎ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নাহিদের খেলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতে না পারেন, তাহলে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ফেরার সম্ভাবনা বিবেচনায় আসতে পারে। তবে সেটিও নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের অগ্রগতির ওপর।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ধরে রাখতে বাংলাদেশের সামনে প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় সেই স্বপ্নের পথে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে পরবর্তী টেস্টগুলোতে ভালো ফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে নাহিদের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিপক্ষের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে পেসারদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নাহিদকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও চোট পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেওয়া কঠিন।

একই সঙ্গে তাঁর পরিবর্তে অন্য পেসারদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নাহিদের গতি ও বোলিংয়ের ধরন যে দলের জন্য আলাদা একটি অস্ত্র, তা বিবেচনায় রেখে তাঁর অনুপস্থিতির প্রভাব সামাল দিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

বারবার চোটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রত্যাবর্তন

নাহিদ রানার জন্য চোটের সমস্যা নতুন নয়। এর আগে গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় তাঁর পাশের পেশিতে দ্বিতীয় মাত্রার চোট লাগে। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি।

সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুনর্বাসন কার্যক্রমে আবারও সমস্যায় পড়েন এই পেসার। এবার তাঁর নিতম্বের পেশিতে চোট লাগে। এর ফলে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও খেলা হয়নি তাঁর।

আগের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার আগেই নতুন সমস্যায় পড়ায় নাহিদের প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে গেছে। এবার ল্যাব্রামের চোট সেই অপেক্ষাকে দীর্ঘ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

একজন ফাস্ট বোলারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ফিট থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চোট থেকে ফিরে ধাপে ধাপে বোলিংয়ের চাপ বাড়ানোও জরুরি। নাহিদের ক্ষেত্রেও পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা প্রয়োজন হবে।

এখন নজর পুনর্বাসনের অগ্রগতিতে

নাহিদ রানার মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় ইনজেকশন নেওয়ার পর তাঁর পুনর্বাসন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বোলিং শুরু করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিসিবির কর্মকর্তা। তবে বোলিং শুরু করা, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার উপযোগী হয়ে ওঠা—এগুলো আলাদা ধাপ।

তাই আগামী কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি কতটা হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুনর্বাসনে ভালো সাড়া পেলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কোনো এক পর্যায়ে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সুস্থ হতে বেশি সময় লাগলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নাহিদ রানাকে না পাওয়ার পর এখন বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ল্যাব্রামের চোট থেকে সেরে উঠতে কত দিন লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই গতিময় পেসারকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশা থাকলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় নির্ভর করছে পুনর্বাসনের অগ্রগতি ও পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ওপর।

আরও পড়ুন