প্রতিশোধের স্পৃহায় ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ:১৫:১৯,২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিশোধের স্পৃহায় ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা

সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকেন আবদিফাতাহ মোহাম্মদ। জীবনের প্রায় ২০ বছর কাটিয়েছেন মাছ ধরে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নৌকা নিয়ে সমুদ্রে নামতে শুরু করেছিলেন তিনি। একসময় মাছ ধরেই পরিবারের ভরণপোষণ চলত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে পরিস্থিতি। সমুদ্রে মাছ কমে গেছে, লবস্টার পাওয়াও আগের মতো সহজ নয়। বিদেশি বড় বড় মাছ ধরার ট্রলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না স্থানীয় জেলেরা। তার ওপর নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের তৎপরতা।

সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের উপকূলীয় শহর বান্দের বেইলার এই জেলের কাছে সমুদ্র এখন আর শুধু জীবিকার উৎস নয়, বরং অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কেরও নাম। জলদস্যুদের দমনে নিরাপত্তা অভিযান চলছে, সমুদ্রের ওপর দিয়ে টহল দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার। নিরাপত্তার স্বার্থে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল। ফলে জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত নন, এমন সাধারণ জেলেরাও পড়েছেন চরম সংকটে।

আলজাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তার পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সোমালিয়ার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জাহাজ ছিনতাই করে নাবিকদের জিম্মি করা ও বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মাছ কমছে, বাড়ছে জেলেদের দুর্দশা

সোমালিয়ার উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সমুদ্রের সম্পর্ক গভীর। বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস মাছ ধরা। কিন্তু স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বিদেশি বড় ট্রলারগুলোর কারণে তাদের মাছ ধরার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

আবদিফাতাহ মোহাম্মদের মতো ছোট নৌকার জেলেরা আধুনিক সরঞ্জাম ও বড় ট্রলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছেন না। আগের তুলনায় কম মাছ পাওয়ায় পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ ধরার আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে খাদ্য কেনা, সন্তানদের দেখাশোনা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর ওপরও।

সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৯১ সালে ভেঙে পড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জলসীমায় কার্যকর নজরদারির ঘাটতি ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি জাহাজের অবৈধ মাছ ধরার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন স্থানীয় জেলেরা।

জেলেদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অভাবে সামুদ্রিক সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবিকা হারানোর হতাশা থেকে উপকূলের কিছু মানুষ একসময় অস্ত্র হাতে সমুদ্রে নামতে শুরু করেন। তবে সময়ের সঙ্গে এই তৎপরতার একটি অংশ সংগঠিত অপরাধে রূপ নেয়। জাহাজ ছিনতাই, নাবিকদের জিম্মি করা এবং মুক্তিপণ আদায় হয়ে ওঠে জলদস্যুদের আয়ের অন্যতম উপায়।

মোহাম্মদ স্বীকার করেন, তার সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ জলদস্যুতায় জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু এর ফলে পুরো এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাছ ধরার সুযোগ কমে যাওয়া, নিরাপত্তা অভিযান এবং মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ সাধারণ জেলেদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

জলদস্যু দমনে নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে সাধারণ মানুষ

জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আগস্টের শেষ দিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জেলেদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, জলদস্যুরা সাধারণ জেলের ছদ্মবেশে চলাচল করে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ওপর। যারা প্রতিদিন মাছ ধরে আয় করেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করেই জীবিকার সুযোগ হারান। সমুদ্রে যেতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে যায়, অথচ পরিবারের খাবার ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর প্রয়োজন থেকেই যায়।

স্থানীয় জেলে আবদিরিজাক সাঈদের অভিযোগ, জলদস্যুদের কাছে খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। দোকানিদেরও জলদস্যুদের কাছে পণ্য বিক্রি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এতে মাছ ধরা থেকে শুরু করে উপকূলীয় বাজারের ব্যবসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপের চাপও শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

জলদস্যুদের দমনে অভিযান পরিচালনা করা জরুরি হলেও একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধী এবং নিরপরাধ জেলেদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেলবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ে নাবিকদের বন্দিদশা

সোমালিয়ার জলদস্যুতার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তেলবাহী জাহাজ ‘অনার ২৫’ ছিনতাইয়ের ঘটনায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল জাহাজটিতে হামলা চালায় সশস্ত্র জলদস্যুরা। জাহাজটিতে ১৭ জন নাবিক ছিলেন। তাদের বেশির ভাগকেই দীর্ঘ সময় বন্দিদশায় কাটাতে হয়।

জাহাজের দ্বিতীয় প্রকৌশলী সৈয়দ হুসাইন ইউসুফ এবং নাবিক ইয়াসির খানের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় জলদস্যুরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে জাহাজে উঠে আসে। এরপর নাবিকদের জাহাজের ব্রিজে আটকে রাখা হয়। তাদের চলাফেরার সুযোগ ছিল সীমিত। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বন্দিদশায় নাবিকদের ওপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

ইউসুফের বর্ণনা অনুযায়ী, জলদস্যুরা প্রথমে ৭০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবির পরিমাণ ১০ লাখ ডলারে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়। তবে মুক্তিপণের অঙ্ক কমানোর পরও নাবিকদের মুক্তি নিশ্চিত হতে সময় লেগে যায়।

জাহাজটি উদ্ধারের আগে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দিদশায় থাকা নাবিকদের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। এমন ঘটনা শুধু জাহাজের কর্মীদের জীবনকেই বিপন্ন করে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।

অভিযানে উদ্ধার, গোলাগুলিতে প্রাণহানি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুন্টল্যান্ডের সামুদ্রিক পুলিশ ‘অনার ২৫’ উদ্ধারে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় গোলাগুলি শুরু হয় এবং জলদস্যুদের নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষ বাধে বলে নাবিকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।

গুলিতে পাঁচজন নাবিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, জলদস্যুদের দখলে থাকা ‘অনার ২৫’, ‘সিমুল’ এবং ‘ইউরেকা’—এই তিনটি জাহাজ মুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ৪৪ জন নাবিককে মুক্ত করা হয় বলে জানানো হয়। ‘অনার ২৫’ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজন নাবিকের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়।

এই অভিযান জলদস্যুদের দখলে থাকা জাহাজ উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার প্রমাণ দিলেও একই সঙ্গে জিম্মি নাবিকদের জীবন রক্ষার জটিলতাও সামনে এনেছে। সশস্ত্র অভিযান চলাকালে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আরও চাপে সোমালিয়া

সোমালিয়ার জলদস্যুদের পুনরুত্থানের পেছনে শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা নয়, অর্থনৈতিক সংকটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে। সোমালিয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় অংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশটির অর্থনীতি আগে থেকেই নানা সংকটে রয়েছে। দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব, খাদ্যনিরাপত্তার সমস্যা এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বহু পরিবার টিকে থাকার সংগ্রাম করছে। এমন পরিস্থিতিতে মাছ ধরার মতো প্রচলিত জীবিকার সুযোগ কমে গেলে উপকূলীয় মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক দুর্দশা কিছু মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে দারিদ্র্য বা বেকারত্ব কোনোভাবেই জাহাজ ছিনতাই, নাবিকদের জিম্মি করা কিংবা মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধকে বৈধতা দেয় না। বরং জলদস্যুতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোরও সমাধান জরুরি।

আন্তর্জাতিক নৌপথের পরিবর্তনেও বাড়ছে ঝুঁকি

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে হুতিদের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের পথেও পরিবর্তন এসেছে। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে অনেক জাহাজকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

কিছু জাহাজ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে সোমালিয়ার উপকূলের কাছাকাছি পথ ব্যবহার করতে পারে। এতে জলদস্যুদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কিছু জাহাজের উপস্থিতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজরদারি ও সামরিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রাধিকার বদলানোর প্রভাব সোমালিয়ার উপকূলেও পড়তে পারে।

তবে জলদস্যুতার পুনরুত্থানকে কোনো একক কারণে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্থানীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা, অপরাধী চক্রের সংগঠিত তৎপরতা, আন্তর্জাতিক নৌপথের পরিবর্তন এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক দুর্দশা—সবকিছু মিলিয়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

তরুণদের জলদস্যুতায় জড়ানো ঠেকাতে উদ্যোগ

জলদস্যুদের বিরুদ্ধে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বান্দের বেইলার কিছু মানুষ তরুণদের জলদস্যুতায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছেন।

মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অস্ত্র নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া কয়েকজন তরুণকে স্থানীয় বাসিন্দারা থামিয়ে দেন। তাদের আশঙ্কা, জলদস্যুতায় জড়িয়ে পড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট তরুণরাই নয়, পুরো সম্প্রদায়কে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

জলদস্যুদের তৎপরতা বাড়লে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান জোরদার হয়, মাছ ধরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে অপরাধে জড়িত কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো এলাকার মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অভিযান সফল হওয়ার পর ১ অক্টোবর মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে উপকূলে সামরিক হেলিকপ্টারের নজরদারি অব্যাহত ছিল।

জেলেদের চাওয়া শুধু নিরাপদে ঘরে ফেরা

জলদস্যুতার বিরুদ্ধে অভিযান ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা উদ্যোগের মধ্যেও উপকূলীয় জেলেদের মূল চাওয়া খুব সাধারণ—তারা সমুদ্রে যেতে চান, মাছ ধরতে চান এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসতে চান।

আবদিরিজাক সাঈদেরের বর্ণনায়, আকাশে সামরিক উড়োজাহাজের শব্দ শুনলে তারা বুঝতে পারেন নিরাপত্তা নজরদারি আরও কাছাকাছি এসেছে। একদিকে জলদস্যুদের ভয়, অন্যদিকে জীবিকার অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

সোমালিয়ার উপকূলীয় সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবিকা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলদস্যুদের দমন করতে কার্যকর নজরদারি, জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ, স্থানীয় জেলেদের অধিকার সুরক্ষা, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, সমুদ্রে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার লড়াই শুধু জাহাজ ও নাবিকদের রক্ষার বিষয় নয়; এটি হাজারো জেলে ও তাদের পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াইও।

সূত্র: আলজাজিরা ও সিএনএন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন