আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:১৭:২৩,১ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পরবর্তী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও সামরিক পরিকল্পনা সাজানোর কাজ শুরু করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দিতে একটি বিস্তৃত সামরিক কৌশলগত ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। শত্রুপক্ষকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামরিক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করা হয়েছে।
তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে জেনারেল মহেব্বি জানান, সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনাগুলো ইরানের সামরিক কৌশলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁর দাবি, সশস্ত্র বাহিনী এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্ভাব্য শত্রু হামলার জবাব দিতে বেশি প্রস্তুত।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজেদের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত রাখবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাদের মিত্ররা নতুন করে কোনো সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালালে তার পরিণতি কী হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, সেটিও ইরানের পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের সামরিক অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য সংঘাতকে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
তবে আইআরজিসির এসব বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ