আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:১৫:৫৫,২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলা ঠেকানো এবং শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সূত্র জানিয়েছে, চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। তবে আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাবের শর্তের চেয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো নির্ধারণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার উদ্যোগ, পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি
একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সংকট
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
সংঘাতের পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করে। এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালীটি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে দেশটি নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পথ খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, নতুন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের হুঁশিয়ারি সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, সামরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শান্তি আলোচনা কি উত্তেজনা কমাতে পারবে?
ভ্যান্সের চিঠি ও পরবর্তী যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাব্য পথ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার কাঠামো নিয়ে যোগাযোগ হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
একদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কতটা এগোবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন এবং ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তার ওপরই আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
সূত্র: বাসস