ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রাতের ছবি প্রকাশ করল নাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ:১৭:১৭,৩০ অক্টোবর ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রাতের ছবি প্রকাশ করল নাসা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগে এর রাতের একটি চমকপ্রদ উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ছবিতে ঘূর্ণিঝড়টির বিশাল বিস্তার ও তীব্রতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

শুক্রবার নাসা আর্থের এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি অর্ণবকে ২০২৬ সালের উত্তর ভারত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের প্রথম নামযুক্ত ঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

নাসার তথ্যমতে, গত ২৭ অক্টোবর ভারতের স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪২ মিনিটে নোয়া-২০ (NOAA-20) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ছবিটি ধারণ করা হয়। স্যাটেলাইটে থাকা বিশেষ ইনফ্রারেড ইমেজিং রেডিওমিটার স্যুট (VIIRS) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারেও ঘূর্ণিঝড়টির ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানায়, ছবি ধারণের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।

গত ২৫ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবর ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে। এ সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটারে নেমে আসে। আইএমডির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এ ধরনের ঝড়কে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় শহর, কৃষিজমি ও জেলেপল্লিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।

তবে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নাসার প্রকাশিত রাতের এই উপগ্রহ চিত্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শক্তি ও বিস্তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন