প্রথমবার ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ২ হাজার ৪০৫ আনসার সদস্য

তানভীর খান

প্রকাশ:১৫:২২,২৭ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ২ হাজার ৪০৫ আনসার সদস্য

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। নির্বাচনী দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পরিচয় ও উপস্থিতি যাচাই করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ব্রিফিংয়ে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সদস্যদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

মহাপরিচালক বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্বে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম কিংবা অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম, হুমকি বা প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৬৬৫ জন পুরুষ ও ৭৪০ জন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে মোট ৩৭০ জন এন্ড ইউজার এবং তিনটি উপজেলায় ছয়টি স্ট্রাইকিং টিমে আনসার ব্যাটালিয়নের ৬০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সদস্য মোতায়েনে STDMS সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতি যাচাই করা হবে। নির্বাচনী নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি বাহিনীর সদর দপ্তরের অপারেশন শাখার কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মহাপরিচালক নির্দেশনা দেন, ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ব্যালট বাক্স যথাযথভাবে জমা দেওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভোটকেন্দ্র বা ডিউটি পোস্ট ত্যাগ করা যাবে না। দায়িত্বে অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বাহিনীর সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্জীবন প্রকল্প ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সমন্বয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং দলভিত্তিক ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রংপুর অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন