রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ:১৫:৫৮,২২ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে বলে জানা গেছে।
সকাল থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুপুরে সাজেকের বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন। উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময়ের পর সশস্ত্র সদস্যরা পিছু হটেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানাতে পারেননি ওসি।
অবরোধে আটকা পড়েন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক
সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরোধকারীরা বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করেন। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাজেক থেকে পর্যটকদের বের হয়ে আসার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্র থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা করা পর্যটকদের গাড়িবহর বাঘাইহাটের উজোবাজার এলাকায় আটকে দেন অবরোধকারীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে। পরে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যৌথ বাহিনীর—সেনাবাহিনী ও পুলিশের—নিরাপত্তায় সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, সাজেকের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয়।
এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাস এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন আয়োজকেরা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাজেকের সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
অবরোধকারীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের চলাচলে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দাবি পুলিশের
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাজেক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকদের গাড়িবহর বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা আটকে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, বাধা দেওয়ার একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।এদিকে সড়ক অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।